জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের নানা দিক। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর জীবন নিয়ে যদি কোনো ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়, তাহলে তার নাম হবে ‘অপু: দ্য সারভাইভার’। অপু বিশ্বাস বলেন, “অবশ্যই ‘অপু দ্য সারভাইভার’ হওয়া উচিত। কারণ, প্রত্যেক নারীর ক্ষেত্রে আমার একটা কথাই বলার থাকবে, সারভাইভাল যদি জীবনের অংশ মনে করে, তাহলে সেটা খুবই ভালো।”
‘দিদি’ ডাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য
নতুন নায়িকারা তাঁকে কী ডাকে জানতে চাইলে অপু বিশ্বাস বলেন, “আমাকে সবাই দিদি বলতে বেশি কমফোর্টেবল।”
সাংবাদিকরা কি তাঁর জীবন সম্পর্কে বেশি জানে?
অপু বিশ্বাস মনে করেন, সাংবাদিকরা তাঁর সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। তিনি বলেন, “আসলে সাংবাদিকেরা আমাকে নিয়ে বেশি জানে না। জানার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক সময় ঝড়ে বক মরে, তখন মনে করে ফকিরের কেরামতি! কিন্তু সত্যটা আসলে কখনোই জানে না, আমি নিজে না বলা পর্যন্ত।”
বাসায় চলে ‘জয়তন্ত্র’
ছেলে জয় আর্জেন্টিনা সমর্থক, আর অপু বিশ্বাস ব্রাজিল সমর্থক। বিশ্বকাপের সময় বাসায় কী চলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আসলে বাসায় সব সময় জয়েরই প্রাধান্য থাকে। তা ছাড়া এবার যেহেতু এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল একসঙ্গে খেলেনি, তাই ও রকম ঝামেলা হয়নি। আমার বাসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছে সে। বাসায় গণতন্ত্র নেই, মাতৃতন্ত্রও নেই। এখানে চলে শুধু জয়তন্ত্র।”
ছেলে মেসি হতে চায়
জয় যদি মেসির মতো হতে চায়, তাহলে অপু বিশ্বাস কী বলেন? তিনি বলেন, “জয় সব সময়ই বলে, মেসির মতো হতে চাই। সে মেসিকে অনেক পছন্দ করে। তার এই কথা শুনে আমার মনে হয়, হয়তো পড়াশোনা অ্যাভয়েড করে খেলতে যেতে চাইছে। তখন আমি এই কথাটা বলি, তুমি মেসি অবশ্যই হবে, আগে পড়াশোনা শেষ করো।”
সোশ্যাল মিডিয়া বিনোদনের জায়গা
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্টের চেয়ে মানুষ ‘ইঙ্গিত’ খুঁজতে ব্যস্ত থাকে—এটা কি বিনোদন লাগে? অপু বিশ্বাস বলেন, “আমার কাছে পুরো সোশ্যাল মিডিয়াই বিনোদনের জায়গা মনে হয়। সেটা আমার ভুল ধরলেও, আমাকে ভালো বললেও।”
ফেসবুকে সেন্সর বোর্ড থাকলে
ফেসবুক স্ট্যাটাসের সেন্সর বোর্ড থাকলে তাঁর কত পোস্ট আটকে যেত? তিনি বলেন, “আমার কোনো পোস্ট আটকাত না। কারণ, যেহেতু অভিনয়ে দুই দশকের কাছাকাছির মতো অভিজ্ঞতা আছে। এবং ফেসবুক বুঝতে শেখার পর থেকেও আসলে পোস্ট সেন্সর করে দেওয়ার চেষ্টাই করি।”
গুজব দেখে হাসি ও অবাক
গুজব পড়ে কখনো হেসে ফেলেছেন? অপু বিশ্বাস বলেন, “হাসি যেমন পেয়েছে, তেমনি ভীষণ অবাকও হয়েছি। ইদানীং এআই দিয়ে যখন অনেক কথা, ছবি ও ভিডিও বানিয়ে দেয় কেউ, সে বিষয়টা দেখে অনেক ইন্টারেস্টিং লাগে। লাইক, ছোটবেলায় কার্টুন দেখতে যেমন মজা পেতাম, এসব দেখে নিজেকে ওই জায়গায় দাঁড় করাই, ভালো লাগে।”
হরর সিনেমা নাকি ইউটিউব থাম্বনেইল—কোনটি ভয়ংকর?
অপু বিশ্বাসের কাছে ইউটিউব থাম্বনেইল বেশি ভয়ংকর। তিনি বলেন, “ইউটিউবের থাম্বনেইল। কারণ, ইউটিউবের থাম্বনেইল একটা হয়, এরপর যখন ক্লিক করে ঢুকি, তখন দেখি অন্য জিনিস। অনেকটা অডিওর সঙ্গে ভিডিওর মিল নাই অবস্থা। হরর মুভিতে হয়তো তা-ও অনুমান করতে পারি, গল্পটা এখানে শেষ হতে পারে, কিন্তু ইউটিউবের থাম্বনেইলটা মোটেও অনুমান করা যায় না, বিশ্বাস তো অনেক পরের।”
মানুষ নায়ক-নায়িকার বাস্তব জীবন বেশি উপভোগ করে?
অপু বিশ্বাস মনে করেন, মানুষ এখন পেশাগত জীবনের চেয়ে ব্যক্তিজীবনে বেশি আগ্রহী। তিনি বলেন, “আসলে আমি মানুষের দোষ দেব না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন একটা জায়গায় চলে গেছে, মানুষেরা এখন পেশাগত জীবন থেকে ব্যক্তিজীবনে আগ্রহ বেশি অনুভব করছে। কারণ, আমরাই তাদের বিনোদনের জায়গাটা সৃষ্টি করে দিচ্ছি।”
২০ বছর আগের অপু আর আজকের অপু
২০ বছর আগের অপু বিশ্বাস আর আজকের অপু বিশ্বাস মুখোমুখি হলে কে বেশি অবাক হতো? তিনি বলেন, “২০ বছর আগের অপু বিশ্বাস বেশি অবাক হতো। কারণ, আজকের অপু আর আগের অপু একেবারে আকাশ ও পাতাল তফাত।”
ফেসবুক-ইউটিউব ধর্মঘটে গেলে কারা চিন্তায় পড়বে?
অপু বিশ্বাস বলেন, “যারা আমাকে নিয়ে বেশি চিন্তা করে, তারা। খাওয়াদাওয়া, স্বামী-সন্তানকে বাদ দিয়ে অপু বিশ্বাসকে নিয়ে চিন্তাটা কোথায় জানাবে! তাদের দমও আটকে যেতে পারে। ওয়াই-ফাইয়ের মতো। ওয়াই-ফাই না থাকলে যেমন ইদানীং অনেকের দম আটকে যায়, ওদেরও তা-ই হবে। তবে আমি অনেক হ্যাপি হব, কারণ আমার তো সময় নাই।”
উইকিপিডিয়া পেজে কী বদলাবেন?
একদিনের জন্য নিজের উইকিপিডিয়া পেজ সম্পাদনা করতে পারলে প্রথমে কী বদলাবেন? অপু বিশ্বাস বলেন, “অবন্তী আমার নাম কখনোই ছিল না, এটা আমি কাউকে বোঝাতে পারি না। আমার নাম শুধুই অপু বিশ্বাস!”



