ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য
টেক্সাসের আর্লিংটনে আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। মাঠের সেই মহালড়াই শুরুর আগেই কথার লড়াইয়ে উত্তাপ ছড়ালেন স্পেনের বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। ফরাসিদের প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে এই বার্সেলোনা উইঙ্গার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের যদি কাউকে ভয় পেতে হয়, তবে তা স্পেনকেই পাওয়া উচিত।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর সোফাই স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ইয়ামাল। আগামী সোমবার ১৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই তরুণ তারকা বলেন, “ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পায়, তবে সেটা আমাদেরই পাওয়া উচিত। এর আগে আমরা ওদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছি, পরপর দুবার হারিয়েছি। সত্যি বলতে, আমার মনে হয় আমরাই এবারের বিশ্বকাপের সেরা দুটি দল। তাই দেখা যাক মঙ্গলবারে কী হয়, তবে আমাদের মনে কোনও ভয় নেই।”
স্পেনের খেলার ধরন ও প্রতিপক্ষের কৌশল
ইয়ামাল আরও বলেন, “হয়তো মনে হতে পারে যে আমরা দুর্দান্ত খেলছি না। কিন্তু আমরা যে দলের বিপক্ষেই খেলি না কেন, তারা আমাদের সামনে ডিফেন্সিভ হয়ে পড়ে।” তার মতে, স্পেনের সঙ্গে কোনও দল সমান তালে (সেয়ানে সেয়ানে) লড়াই করতে আসেনি। তিনি বলেন, “দিনশেষে আজ আমরা আবারও জয় পেয়েছি। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” সেমিফাইনালে পৌঁছাতে পেরে নিজেরা অত্যন্ত আনন্দিত উলেখ করে ইয়ামাল বলেন, “আমরা এখানে (বিশ্বকাপে) অনেক দূর এসেছি, ফাইনাল পর্যন্ত এই যাত্রা অব্যাহত রাখতে চাই।”
পরিসংখ্যান ও ইতিহাস
পরিসংখ্যানও অবশ্য ইয়ামালের এই আত্মবিশ্বাসের পক্ষে কথা বলছে। গত তিন বছরে এটি হতে যাচ্ছে দুই দলের তৃতীয় হাইভোল্টেজ সাক্ষাৎ। এর আগে ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের মঞ্চে— উভয়বারই ফ্রান্সকে হারিয়ে জয়োৎসব করেছিল স্প্যানিশরা। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এটি স্পেনের মাত্র দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। অপরদিকে ফ্রান্সের সামনে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার হাতছানি।
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের যাত্রা
এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের যাত্রাটা খুব একটা মসৃণ না হলেও শেষ পর্যন্ত তারা শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের পর সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে তারা নকআউটে ওঠে। এরপর অস্ট্রিয়াকে অনায়াসে হারালেও কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালের টিকিট কাটতে তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়তে হয়েছে; যেখানে দুই ম্যাচেই আর্সেনাল তারকা মিকেল মেরিনোর শেষ মুহূর্তের গোল স্পেনকে উদ্ধার করে। প্রতিপক্ষের অতিমাত্রায় রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে নিজের চেনা ছন্দ পুরোপুরি দেখাতে না পারলেও, দলের জয় ও ফাইনালের ওঠার লক্ষ্যেই ফোকাস করছেন বলে জানান হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা ইয়ামাল।
কোচের বক্তব্য
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও ফ্রান্সের শক্তির কথা মাথায় রেখে নিজের দলকে সেরাটা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগামী ম্যাচটি নিয়ে প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। আমরা জানি প্রতিপক্ষ কতটা শক্তিশালী, তবে আমরা এটাও খুব ভালো করে জানি যে ফ্রান্সকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে। এটি আরেকটি সেমিফাইনাল এবং এখানে জিততে হলে আমাদের নিজেদের সেরা সংস্করণটাই মাঠে মেলে ধরতে হবে।”



