সিনেমার জন্য ১৮ কেজি ওজন কমান কার্তিক, শোনালেন সেই গল্প
সিনেমার জন্য ১৮ কেজি ওজন কমান কার্তিক

বলিউড অভিনেতা কার্তিক আরিয়ান তার অভিনীত ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমার মুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করেছেন। এই সিনেমার জন্য তিনি ১৮ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন এবং নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছিলেন।

আবেগঘন স্মৃতিচারণ

কার্তিক আরিয়ান ইনস্টাগ্রামে লেখেন, ‘দুই বছর আগে, আমি এমন এক মানুষের জুতোয় পা রেখেছিলাম যাকে পৃথিবী ভুলে গিয়েছিল। আর দিনশেষে তিনিই আমাকে মনে করিয়ে দিলেন আমার নিজের বিশ্বাসের শক্তিকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সিনেমাটি শুধু একজন মানুষের দমে না যাওয়ার গল্প নয়; এটি ক্ষতচিহ্নগুলোর মেডেলে রূপান্তর হওয়ার গল্প, প্রতিটি ধাক্কা সামলে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।’

শারীরিক পরিবর্তনের পেছনের গল্প

কার্তিক জানান, মুরলিকান্ত পেতকরের চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে তাকে এমন একজন মানুষ হয়ে উঠতে হয়েছিল, যা তিনি আগে কখনো ছিলেন না। তিনি লেখেন, ‘যে ১৮ কেজি ওজন আমি হারিয়েছি, তার তুলনায় আমি যা অর্জন করেছি তা অনেক বিশাল। সেটে প্রতিটা ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, প্রতিটি ফোঁটা ঘাম আর প্রতিটি মুহূর্তের আত্মসংশয়—সেগুলো অভিনয় ছিল না। ওটা ছিল জীবন।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কঠোর প্রশিক্ষণ ও ডায়েট

এই লুক অর্জনের জন্য কার্তিক টানা ১৪ মাস বক্সিংয়ের কঠোর প্রশিক্ষণ নেন এবং তার ডায়েট থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ দিয়েছিলেন। তার ট্রেইনার ত্রিদেব পাণ্ডে জানান, পুরো ফিটনেস রুটিনটি একজন পেশাদার বক্সারের চ্যাম্পিয়নশিপ প্রস্তুতির আদলে সাজানো হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কোনো ধরনের ড্রাগ বা স্টেরয়েড ছাড়াই কার্তিক তার ওজন ৯০ কেজি থেকে কমিয়ে ৭২ কেজিতে নিয়ে আসেন। শুরুতে যিনি একটিও পুশ-আপ দিতে পারতেন না, কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি পিঠে ৫০ থেকে ৬০ কেজি অতিরিক্ত ওজন নিয়ে পুশ-আপ দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেন। স্কিপিং বা দড়ি লাফের ক্ষেত্রেও তার অগ্রগতি ছিল চোখে পড়ার মতো; সাধারণ ফুটওয়ার্ক করতে হিমশিম খাওয়া কার্তিক একপর্যায়ে অনায়াসে ১৪-১৫টি উন্নত ও জটিল ভ্যারিয়েশন রপ্ত করেন।

বিশ্বজুড়ে প্রশংসা

রুপালি পর্দায় কার্তিকের নিখুঁত শারীরিক অবয়ব এবং দুর্দান্ত অভিনয় বিশ্বজুড়ে দর্শক ও সমালোচকদের তুমুল প্রশংসা কুড়িয়েছে, যা প্রমাণ করে তার এই কঠোর পরিশ্রম শতভাগ সফল হয়েছে।