হলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ বলেছেন, বিচ্ছেদকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে বরং উদযাপন করা উচিত। সম্প্রতি ইন্টারনেট টক শো ‘সাবওয়ে টেকস’-এ হাজির হয়ে তিনি সম্পর্ক, বিচ্ছেদ ও ভালোবাসা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
বিচ্ছেদ মানেই নতুন জীবনের সূচনা
আলোচনার একপর্যায়ে ৫৬ বছর বয়সী এই তারকা বলেন, ‘বিচ্ছেদ কোনো ব্যর্থতা নয়। সত্যি বলতে, আমি মনে করি এটি আপনাকে নিজের আরও ভালো সংস্করণের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি লঞ্চপ্যাড।’ তাঁর মতে, সম্পর্ক শেষ হওয়াকে নেতিবাচকভাবে না দেখে উদযাপন করা উচিত।
‘আমার মনে হয়, বিচ্ছেদ হলে আমাদের একটা পার্টি দেওয়া উচিত। কেউ যদি বলে, “তোমাদের বিচ্ছেদ হয়েছে?”—তখন উত্তর হওয়া উচিত, “অভিনন্দন!” কারণ প্রথমত, তোমরা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছ। দ্বিতীয়ত, সম্ভবত সেটিই সবার জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত ছিল,’ বলেন লোপেজ।
যে মানুষের হৃদয় ভাঙে, হার আসলে তারই
লোপেজের মতে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় যিনি ছেড়ে চলে যান, তিনি সব সময় বিজয়ী নন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, অধিকাংশ বিচ্ছেদে যাকে ছেড়ে যাওয়া হয়, আসল বিজয়ী সে-ই।’ এরপর আরও স্পষ্ট করে যোগ করেন, ‘আপনি যদি সারা জীবন মানুষের হৃদয় ভেঙে বেড়ান, তাহলে পরাজিত আসলে আপনিই।’
হৃদয়ভাঙা থেকেই আসে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা
জেনিফার লোপেজ মনে করেন, জীবনের সবচেয়ে বড় মানসিক পরিবর্তন এসেছে তাঁর হৃদয়ভাঙার অভিজ্ঞতা থেকেই। ‘আমার জীবনে আবেগগত, মানসিক এবং মনস্তাত্ত্বিক যে বড় বড় পরিবর্তন এসেছে, তার প্রায় সবই এসেছে হৃদয়ভাঙার পর। শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, কাজের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে,’ বলেন তিনি।
লোপেজ বলেন, হৃদয় ভাঙার পর মানুষ নিজের ভেতরে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করতে শুরু করে। ‘সেই সময়ই আপনি নিজেকে জিজ্ঞেস করেন—“আসলে কী ঘটল? আমি এটা কীভাবে সামলাব? আমি কেন বারবার একই ভুল করি? কিংবা কেন এমন হলো না? আমি আর কী ভালো করতে পারতাম?” এই প্রশ্নগুলোই মানুষকে বদলে দেয়,’ বলেন তিনি।
কেমন পুরুষ পছন্দ তাঁর?
আড্ডায় সঞ্চালক করিম রহমান জানতে চান, কেমন পুরুষের প্রতি তিনি আকৃষ্ট হন। জবাবে হাসতে হাসতেই লোপেজ বলেন, ‘আমি কোনো ধরনের বৈষম্য করি না। রোগা ছেলেও ভালো লাগে, আবার একটু ভুঁড়িওয়ালা পুরুষও ভালো লাগে। দাড়িওয়ালা ভালো লাগে, আবার ক্লিন-শেভডও ভালো লাগে। এসব কোনো বিষয় নয়। আমি মানুষের ভেতরের মানুষটাকেই বেশি পছন্দ করি।’
বেন আফ্লেকের সঙ্গে সম্পর্কের শেষ অধ্যায়
সবশেষে জেনিফার লোপেজের আলোচিত সম্পর্ক ছিল অভিনেতা বেন আফ্লেকের সঙ্গে। দুজন প্রথম প্রেমে পড়েন ২০০০-এর দশকের শুরুতে। ২০০৪ সালে তাঁদের বাগদান ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০২১ সালে আবার এক হন তাঁরা। ২০২২ সালে বিয়ে করলেও সেই সংসার টেকেনি। দুই বছর পর, ২০২৪ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়।
এর আগে ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গায়ক মার্ক অ্যান্থনির সঙ্গে সংসার করেছিলেন লোপেজ। তাঁদের ১৮ বছর বয়সী যমজ সন্তান ম্যাক্স ও এমে রয়েছে।
নতুন প্রেমের গুঞ্জন, কিন্তু...
সম্প্রতি ‘অফিস রোমান্স’ ছবির সহশিল্পী ব্রেট গোল্ডস্টেইনের সঙ্গে জেনিফার লোপেজের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। তবে গত মে মাসে পিপল ম্যাগাজিনকে একটি সূত্র জানায়, লোপেজ বর্তমানে একাই বেশ ভালো আছেন এবং সুখী থাকার জন্য তাঁর কোনো প্রেমের সম্পর্কের প্রয়োজন নেই।
একই মাসে ‘জিমি কিমেল লাইভ!’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজেও নিশ্চিত করেন যে তিনি এখন সিঙ্গেল। সেখানে মজার ছলেই তিনি বলেন, ‘আমার এটা আরও আগেই করা উচিত ছিল। আমি এত দিন সবকিছু ভুলভাবে করেছি। বিশ্বাস করুন, আমি সত্যিই সব ভুল করেছি।’
তবে ভালোবাসার প্রতি তাঁর বিশ্বাস এখনো অটুট। আলোচনার শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘একদিন না একদিন কোথাও না কোথাও কারও সঙ্গে দেখা হবেই—যদি সে সত্যিই আমার জন্য যথেষ্ট ভালো হয়।’



