বিসিএস ভাইভা অভিজ্ঞতা: ডাক্তারি ছেড়ে পুলিশ ক্যাডারে কেন আগ্রহ
বিসিএস ভাইভা: ডাক্তারি ছেড়ে পুলিশ ক্যাডারে কেন আগ্রহ

৪৫তম বিসিএসের ভাইভা বোর্ডে ডাক্তার এহসানুল হক পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। ১০ জুন, ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত এই ভাইভায় তিনি ১৫ মিনিট সময় নেন। তাঁর সিরিয়াল ছিল ১১।

ভাইভা বোর্ডের পরিবেশ ও শুরু

ভাইভা বোর্ডের চেয়ারম্যান স্যার শুরু থেকেই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন। এহসানুল হক ভেতরে ঢোকার আগেই চেয়ারম্যান তাঁকে সালাম দেন এবং করমর্দন করেন। তিনি জানতে পারেন, চেয়ারম্যান সবার সঙ্গেই এমন করেন।

চেয়ারম্যান স্যার প্রথমে তাঁর নাম ও ডকুমেন্ট চেক করেন। তিনি জানতে পারেন এহসানুল হক একজন ডাক্তার। তখন তিনি প্রশ্ন করেন, "প্রথম চয়েজ কী?" উত্তরে এহসানুল হক বলেন, "বিসিএস পুলিশ।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ কেন বেছে নিলেন

চেয়ারম্যান স্যার জানতে চান, ডাক্তারি রেখে পুলিশে কেন আসতে চান। এহসানুল হক ব্যাখ্যা করেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মানুষের সেবার জন্য বৈধ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন, যা পুলিশের আছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ডাক্তার ওষুধ লিখলেও রোগী অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি করতে পারে, কিন্তু পুলিশ বাইকচালককে হেলমেট পরতে বাধ্য করতে পারে।

এক্সটার্নাল-১ স্যারের প্রশ্ন

এক্সটার্নাল-১ স্যার ভূগোল, বাজেট ও অপরাধ সম্পর্কিত প্রশ্ন করেন। তিনি হরমুজ ও জিব্রাল্টার প্রণালির অবস্থান জানতে চান। এহসানুল হক সঠিক উত্তর দেন।

বাজেট সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। তিনি জানান, বাজেট ১১ জুন উত্থাপিত হবে এবং সংবিধানের ৮৭ থেকে ৯১ অনুচ্ছেদে বাজেটের কথা বলা আছে। তিনি বাজেটকে ঘাটতি বাজেট হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং ঘাটতি পূরণের উপায় বলেন।

ক্রাইম ও জিডিপির সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, অপরাধ বৃদ্ধি পেলে আর্থসামাজিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়, যা জিডিপিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তিনি ধর্ষণের কেস বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে মূল্যবোধের অবক্ষয়, নৈতিকতার অবনতি ও ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে দায়ী করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাথাপিছু জাতীয় আয় সম্পর্কে তিনি জানান, সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে এটি ২ হাজার ৮২০ মার্কিন ডলার, যা ভারতের চেয়ে বেশি।

এক্সটার্নাল-২ স্যারের প্রশ্ন

এক্সটার্নাল-২ স্যার চিকিৎসা ও আইনগত প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, এহসানুল হক বর্তমানে প্র্যাকটিস করেন কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, শেষ ছয় মাস ধরে বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে বলা হয়। তিনি বলেন, সুরতহাল হলো অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের তৈরি প্রাথমিক প্রতিবেদন, আর ময়নাতদন্ত হলো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে ডাক্তারের রিপোর্ট।

১৪৪ ধারা সম্পর্কে তিনি জানান, এটি ফৌজিদারি কার্যবিধির অধীনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জারি করেন বেআইনি সমাবেশ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে। সূর্যাস্ত আইন সম্পর্কে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, এটি ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের অংশ, যেখানে জমিদারদের সূর্যাস্তের আগে রাজস্ব জমা দিতে হতো।

প্রশাসন ও অন্যান্য প্রশ্ন

চেয়ারম্যান স্যারের নির্দেশে এক্সটার্নাল-২ স্যার প্রশাসন থেকে প্রশ্ন করেন। তিনি এসি ল্যান্ডের কাজ সম্পর্কে জানতে চান। এহসানুল হক বলেন, এসি ল্যান্ডের কাজ হলো নামজারি, ভূমি রাজস্ব আদায়, খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ। মূল কাজ একবাক্যে বলতে তিনি বলেন, ভূমি রাজস্ব আদায় ও ভূমি ব্যবস্থাপনা।

ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের কাজের সমন্বয় সম্পর্কে তিনি প্রশাসনিক সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা ও উচ্ছেদ অভিযানের কথা বলেন।

তৃতীয় চয়েজ ও স্বাস্থ্য

চেয়ারম্যান স্যার তাঁর তৃতীয় চয়েজ জানতে চান। তিনি বলেন, বিসিএস ট্যাক্স, তারপর কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ এবং পঞ্চম চয়েজে স্বাস্থ্য। চেয়ারম্যান মন্তব্য করেন, "স্বাস্থ্যের প্রতি এত বিতৃষ্ণা কেন তোমাদের?" এহসানুল হক বলেন, এটি বিতৃষ্ণা নয়, কিন্তু চেয়ারম্যান তাঁকে থামিয়ে দেন।

ইংরেজি স্পিচ ও শেষ

শেষে চেয়ারম্যান স্যার ইংরেজিতে অর্থোপেডিক্স নিয়ে স্পিচ দিতে বলেন। তিনি মিনিটখানেক স্পিচ দেন। এরপর স্যার তাঁকে যেতে বলেন। তিনি এক্সটার্নাল-২ স্যারের কাছ থেকে ডকুমেন্ট নিয়ে চেয়ারম্যানকে সালাম দিয়ে বেরিয়ে আসেন। বের হয়ে ঘড়ি দেখেন, ১৫ মিনিটের মতো ভেতরে ছিলেন।

লেখক: এহসানুল হক, চিকিৎসক, পড়াশোনা: রংপুর মেডিকেল কলেজ, সেশন: ২০১৬-১৭।