বিতর্কিত গানের জন্য ক্ষমা চাইলেন র্যাপার বাদশাহ, মহিলা কমিশনে দিলেন তিন প্রতিশ্রুতি
ভারতীয় বিনোদন জগতের জনপ্রিয় র্যাপার বাদশাহ তার বিতর্কিত গান 'টাটেরি'র জন্য শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করেছেন। গানের কথায় অশ্লীলতা এবং ভিডিওতে নারীকে আপত্তিকরভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে তিনি দেশটির জাতীয় মহিলা কমিশনের (এনসিডব্লিউ) কাছে সশরীরে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন।
গান সরানো ও এফআইআর দায়ের
বিতর্কিত গান 'টাটেরি' ইতোমধ্যে ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে বাদশাহর ভোগান্তি এখানেই শেষ হয়নি। গানটির মাধ্যমে নারীকে অবমাননা করার অভিযোগে হরিয়ানায় বাদশাহর বিরুদ্ধে একটি এফআইআরও করা হয়েছে। ভারতীয় 'নারী অশালীন উপস্থাপনা নিষেধ আইন' ও 'তথ্য প্রযুক্তি আইন' অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে এই র্যাপারকে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
মহিলা কমিশনের শুনানি ও ক্ষমাপ্রার্থনা
জাতীয় মহিলা কমিশনের শুনানিতে হাজির হয়ে বাদশাহ একটি লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনাপত্র জমা দিয়েছেন। গত মার্চে গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই এর কুরুচিপূর্ণ শব্দ চয়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হলে বিষয়টি নজরে আসে এনসিডব্লিউয়ের। পরে কমিশন দ্রুত বাদশাহর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
তিনটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি
শুনানি চলাকালীন এ সংগীতশিল্পী কেবল ক্ষমাই চাননি; বরং নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য প্যানেলের কাছে তিনটি বিশেষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেই প্রতিশ্রুতি মোতাবেক, আগামী চার মাসের মধ্যে নারী ক্ষমতায়নের ওপর একটি বিশেষ গান তৈরি করবেন তিনি। দ্বিতীয়ত ৫০ জন কন্যাশিশুর পড়াশোনার যাবতীয় খরচ এবং দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এ সংগীতশিল্পী। এবং শেষে অঙ্গীকার করেছেন— নারীর কল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার জন্য কনসার্ট বা অন্য মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হবে।
এই ঘটনায় বিনোদন শিল্পে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাদশাহর এই পদক্ষেপকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।



