আইনি জটিলতায় আবারও ফাঁসলেন সালমান খান
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান খান আবারও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন। রাজশ্রী এলাচ নিয়ে বিতর্কের জের ধরে জয়পুর জেলা ভোক্তা কমিশন তার বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়াও, তার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত
এই মামলার সূত্রপাত হয় যখন অভিযোগ ওঠে যে, 'রাজশ্রী ইলাইচি' ব্র্যান্ডটি এলাচের নামে পান-মসলার বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। সালমান খান এই ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৬ জানুয়ারি জেলা কমিশন একতরফা অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়, যেখানে সালমান খানসহ সংশ্লিষ্টদের এমন বিজ্ঞাপন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশ অমাননার অভিযোগ
বার অ্যান্ড বেঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিশনের নির্দেশ সত্ত্বেও সালমান খানের সঙ্গে যুক্ত একটি হোর্ডিং এখনো প্রদর্শিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জানুয়ারি প্রথম শুনানিতেই জেলা কমিশন সালমান খানের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। আদেশ অমাননার অভিযোগে ৭২ ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনি লড়াই ও প্রতিক্রিয়া
সালমান খান এই সিদ্ধান্তকে রাজস্থান স্টেট কনজিউমার কমিশনে চ্যালেঞ্জ করেন। তবে গত ১৬ মার্চ রাজ্য কমিশন তার আবেদন খারিজ করে দিয়ে জেলা কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সালমান খানের আইনজীবী ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপুটস রেড্রেসাল কমিশনে (এনসিডিআরসি) দাবি করেন যে, জয়পুর ভোক্তা কমিশন তার মক্কেলের প্রতি অন্যায় করেছে।
আইনজীবী যোগেন্দ্র বাডিয়াল অভিযোগ করেন যে, সঠিকভাবে নোটিশ বা আদেশের কপি না দিয়েই সালমান খানের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সালমান খানের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী রবি প্রকাশ বলেন, এই আদেশ সম্পর্কে তাদের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি এবং তারা কোনো নোটিশও পাননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদেশের সরকারি কপি না পেলে সেটি লঙ্ঘনের অভিযোগ কীভাবে আনা যায়? তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অফিসিয়াল কপি পাওয়ার আগেই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ
এই আইনি জটিলতা সালমান খানের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ভোক্তা কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চতর আদালতে আবেদন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, স্পেশাল টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দিকেও নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা বলিউড জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভোক্তা সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।



