হলিউডের 'সুপারম্যান' খ্যাত অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিনের জীবনাবসান
হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ভ্যালেরি পেরিন আর নেই। সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে ৮২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টেসি সাউদার। ভ্যালেরি পেরিন দীর্ঘদিন ধরে পারকিনসন রোগে ভুগছিলেন, যা ২০১৫ সালে তার শরীরে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল।
অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই এবং তথ্যচিত্র
পারকিনসন রোগের বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম নিয়ে ২০১৯ সালে স্টেসি সাউদার 'ভ্যালেরি' শিরোনামে একটি ৪৫ মিনিটের তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। ২০২৩ সালে হলিউড রিপোর্টারের একটি প্রতিবেদনে ভ্যালেরি পেরিন ও তার ভাইয়ের অসুস্থতার বিস্তারিত উঠে আসে, যেখানে স্টেসি সাউদার তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনের ট্র্যাজেডি
ভ্যালেরি পেরিনের ব্যক্তিগত জীবন একের পর এক দুর্ঘটনা ও মর্মান্তিক ঘটনায় আচ্ছন্ন ছিল। তার বাগদত্তা, একজন বন্দুক আমদানিকারক, দুর্ঘটনাবশত নিজের বুকে গুলি চালিয়ে মারা যান। এরপর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে চলে আসেন এবং সেখানে প্রখ্যাত হেয়ারড্রেসার জে সেব্রিংয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, জে সেব্রিংও শ্যারন টেটের বাড়িতে 'ম্যানসন ফ্যামিলি'র হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
ক্যারিয়ারের উত্থান এবং সাফল্য
ভ্যালেরি পেরিনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল লাস ভেগাসের শো-গার্ল হিসেবে। একই বছর 'স্টিমবাথ' নামক নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মার্কিন টেলিভিশনে প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে সাহসী উপস্থিতির জন্য তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭২ সালে 'স্লটারহাউজ ফাইভ' এবং ১৯৭৩ সালে 'দ্য লাস্ট আমেরিকান হিরো' সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হলিউডে আলোচনায় আসেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ডিনার পার্টিতে একজন ট্যালেন্ট এজেন্টের নজরে পড়ার পর তার ভাগ্য বদলে যায়।
অস্কার মনোনয়ন এবং বিশ্বব্যাপী খ্যাতি
বব ফস পরিচালিত ১৯৭৪ সালের 'লেনি' সিনেমায় লেনি ব্রুসের স্ত্রীর চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য তিনি অস্কারে সেরা অভিনেত্রীর মনোনয়ন পান। তবে, রিচার্ড ডনারের কালজয়ী সিনেমা 'সুপারম্যান'-এ লেক্স লুথরের প্রেমিকা মিস টেশমাচার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেন। এই ভূমিকায় তার অভিনয় তাকে 'সুপারম্যান' খ্যাত অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
ভ্যালেরি পেরিনের জীবন ও কর্ম হলিউড ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়, যা তার অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য সত্ত্বেও তার প্রতিভা ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখবে। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগৎ একজন মহান শিল্পীকে হারালো, যার সৃষ্টি দর্শকদের হৃদয়ে চিরকাল জাগরুক থাকবে।



