অভিনেতা শামস সুমনের শেষযাত্রা: রাজশাহীতে শেষনিদ্রা, শেষ দেখা নিলেন সহকর্মীরা
শামস সুমনের শেষনিদ্রা রাজশাহীতে, জানাজায় উপচে পড়া শোক

অভিনেতা শামস সুমনের জীবনযাত্রার সমাপ্তি তাঁর প্রিয় শহর রাজশাহীতে

যে শহর তাঁর শিল্পী জীবনের প্রথম পদক্ষেপের সাক্ষী ছিল, সেই রাজশাহীতেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেতা শামস সুমন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী নগরের হেতেম খাঁ গোরস্তানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেতেম খাঁ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় জানাজা, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শিল্পযাত্রার সূচনা থেকে শেষ বিদায় পর্যন্ত রাজশাহীর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক

শামস সুমনের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাজশাহীতে। স্কুলজীবনে রাজশাহী বেতারে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এ সাংস্কৃতিক চর্চা করে তিনি শিল্পের প্রতি আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। শহরটির সঙ্গে তাঁর এই আত্মিক বন্ধন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অটুট ছিল।

ভাই ও সাংবাদিক রাশেদ রিপন জানান, পরিবারের সদস্যরা ঢাকা থেকে রাজশাহীতে যানজটের কারণে সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি, যার ফলে দাফন প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব ঘটে। তবে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় শেষকৃত্য সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃত্যু ও জানাজা: একটি শিল্পীর শেষ যাত্রা

১৭ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬১ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন শামস সুমন। পরদিন বুধবার সকালে ঢাকার চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা, যেখানে উপস্থিত ছিলেন সহকর্মী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

পরিবারের সদস্যরা বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর রাজশাহীতে দ্বিতীয় জানাজা ও দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই ঢাকা থেকে তাঁর মরদেহ রাজশাহীতে পৌঁছায় এবং জোহরের নামাজের পর ঝাউতলা এলাকার মিঠুর মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় আরেকটি জানাজা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এক বহুমাত্রিক শিল্পীর কর্মজীবন

নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশন নাটকের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জনকারী শামস সুমন মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—এই তিন মাধ্যমেই সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ‘অহংকার’
  • ‘অনুরাগ’
  • ‘যদি ভালোবাসো’
  • ‘এই তো আমাদের বাড়ি’
  • ‘রাতের অতিথি’
  • ‘অতন্দ্র প্রহর’
  • ‘খোঁজ’

চলচ্চিত্র জগতেও তাঁর অবদান কম নয়। ‘জয়যাত্রা’, ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, ‘আয়না কাহিনি’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘চোখের দেখা’ ও ‘মন জানে না মনের ঠিকানা’সহ বেশ কিছু সিনেমায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। নির্মাতা শহিদুল ইসলাম খোকনের ‘স্বপ্নপূরণ’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন, যা তাঁর কর্মজীবনের একটি উজ্জ্বল মাইলফলক।

শামস সুমনের মৃত্যু বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনে একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর স্মৃতি ও অবদান চিরকাল বাঙালি দর্শকদের হৃদয়ে অম্লান থাকবে।