তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ইমন চক্রবর্তীর অনুপস্থিতি: গায়িকার ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
তৃণমূল কংগ্রেস মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ২৯১টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, কিন্তু সেখানে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তীর নাম নেই। এই ঘটনায় গায়িকা ক্ষুব্ধ হয়ে মিডিয়ার জল্পনা ও চর্চার সমালোচনা করেছেন।
জল্পনা ও প্রত্যাশার পটভূমি
মাসখানেক আগে ইমন চক্রবর্তীর কণ্ঠে রাজ্য সরকারের কাজের খতিয়ানের গান 'লক্ষ্মীর পাঁচালি' শোনা গিয়েছিল। এই গান সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে গায়িকা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। ইমনের বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রাপ্তি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছিল।
প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও অনুপস্থিতি
তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রার্থী তালিকায় ইমন চক্রবর্তীর নাম না থাকায় সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেছে। একটি গণমাধ্যম গায়িকাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তার কাছে কি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব গিয়েছিল, নাকি তিনি সচেতনভাবেই সরে দাঁড়িয়েছেন। ফোন ধরেই ইমন চক্রবর্তী একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, "মিডিয়া আমাকে নিয়ে এই হাইপড তৈরি করেছিল। আমি তো কখনো কিছুই বলিনি। আমার গান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভালোবাসেন। তার মানে এই নয়, আমরা প্রতিবার ভোটে দাঁড়িয়ে পড়ব।"
গায়িকার মানসিক অবস্থা ও অনুরোধ
ক্ষুব্ধ হয়ে ইমন চক্রবর্তী আরও বলেন, "এটা নিয়ে যেভাবে চর্চা হয়েছে, তাতে আমি মেন্টাল ট্রমায় চলে গেছি। আমি শিল্পী। আমার কাজ শুধু গান গাওয়া। আমি সেটাই করব। গত কয়েক দিন ধরে যেটা চলল, আজ সেটার উত্তর পাওয়া গেল। আশা করি এবার সবাই শান্ত হবেন।"
সামাজিক মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, "বিগত কয়েক মাস ধরে আপনারা আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এই যেমন— উত্তরপাড়া, দক্ষিণপাড়া, বালি, সিমেন্ট, আমতলা, জামতলা ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার কেওড়াতলাতেও নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন।"
তিনি অনুরোধ করেন, "এবার আপনাদের কাছে আমার করজোড়ে একটি বিনীত অনুরোধ— প্লিজ, আমাকে এবার একটু নিজের পায়ে দাঁড়াতে দিন।"
সামগ্রিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনা রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমানা তুলে ধরেছে। ইমন চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া শিল্পীদের রাজনৈতিক জল্পনা থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইচ্ছাকে প্রতিফলিত করে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর এই আলোচনা এখন শান্ত হওয়ার দিকে এগোচ্ছে, কিন্তু গায়িকার ক্ষোভ ও মেন্টাল ট্রমার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে।



