ভিকি কৌশলের বিবাহিত জীবন নিয়ে মন্তব্যে নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনা
বলিউড অভিনেতা ভিকি কৌশল সাম্প্রতিক একটি বিবাহ অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। একটি ভিডিওতে তাকে 'ওয়াইফ জোকস' করতে দেখা গেছে, যা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে নেটিজেনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
ভিডিওতে কী দেখা গেছে?
ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ভিকি কৌশলকে বরপিতার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'মুজহে আপসে বস একি সওয়াল পূছনা হ্যায়, হাউ'স দ্য জোশ?' উত্তরে উপস্থিতরা চিৎকার করে বলেন, 'হাই, স্যার!' এরপর তিনি বিবাহিত ও অবিবাহিত জীবনের তুলনা করে মন্তব্য করেন যে ব্যাচেলরদের উৎসাহ সবসময় উঁচু থাকে, কিন্তু বিবাহিতদের ক্ষেত্রে এটি বছর বছর কমে যায়। তবে তিনি এও যোগ করেন যে চার দিনেই এই উৎসাহ কমে যায় না।
নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, 'আমরা কি ২০২৬ সালে এখনও লিঙ্গভিত্তিক 'বিবাহ জোকস' করছি? এ ধরনের জোকস ২০১৬ সালে কমেডি নাইটে কপিলের সঙ্গে রেখে দেওয়া উচিত ছিল।' অন্য একজন মন্তব্য করেন, 'আমি পছন্দ করি না যখন পুরুষরা তাদের বিবাহ নিয়ে পাবলিকভাবে মজা করে। এটি প্রায়শই স্ত্রীর প্রতি অবমাননাকর হিসেবে দেখা যায়। বলা হয় 'মজা হিসেবে নাও'—না, এটা মজার নয়। এটি সম্পর্কের আড়ালে সমস্যা দেখায় এবং বোঝায় যে তিনি সম্পর্কের মধ্যে কতটা চাপ অনুভব করছেন।'
অনেক নেটিজেন ভিকি কৌশলের মন্তব্যকে পুরানো ধাঁচের ও লিঙ্গবৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, বিবাহিত জীবন নিয়ে এমন হাস্যরসাত্মক মন্তব্য প্রায়শই নারীর প্রতি শ্রদ্ধাহীনতার পরিচয় দেয়। বিশেষ করে তার স্ত্রী ও বলিউড অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের প্রতি এই মন্তব্য কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বলিউড জগতের প্রতিক্রিয়া
এখন পর্যন্ত ভিকি কৌশল বা ক্যাটরিনা কাইফ এই ঘটনা নিয়ে কোনো সরকারি বক্তব্য দেননি। তবে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা এই ঘটনাকে বলিউডে লিঙ্গ সংবেদনশীলতার অভাবের আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। গত কয়েক বছরে বলিউডে লিঙ্গবৈষম্য ও নারীবাদী ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা বেড়েছে, এবং ভিকি কৌশলের এই মন্তব্য সেই প্রেক্ষাপটে আরও বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সেলিব্রিটিদের উচিত তাদের বক্তব্যে আরও সংবেদনশীল হওয়া, বিশেষ করে বিবাহ ও সম্পর্ক নিয়ে এমন মন্তব্য এড়ানো যা লিঙ্গভিত্তিক রূঢ়তা বাড়াতে পারে। এই ঘটনা বলিউড জগতে সেলিব্রিটি দম্পতিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনার সীমা কতটুকু হওয়া উচিত, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
