অস্কারের শেষ মুহূর্তের পূর্বাভাস: কে এগিয়ে কোন বিভাগে?
আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোরবেলা লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে বসবে ৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) আসর। শেষ মুহূর্তের পূর্বাভাসে কে এগিয়ে? কার হাতে উঠবে কোন পুরস্কার? জেনে নেওয়া যাক বিবিসি ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে বিশ্লেষণ।
সেরা অভিনেতা: টিমোথি শ্যালামে এগিয়ে
সেরা অভিনেতার বিভাগে সবচেয়ে আলোচিত নাম টিমোথি শ্যালামে। তিনি জশ সাফাদির ‘মার্টি সুপ্রিম’ সিনেমায় টেবিল টেনিস খেলোয়াড় মার্টি মাউজারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এই চরিত্রটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিন্তু কিছুটা বেপরোয়া এক তরুণের গল্প তুলে ধরে, যে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য নানা অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করে। সমালোচকদের মতে, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সাহসী ও জটিল চরিত্রগুলোর একটি এটি। শ্যালামে ইতিমধ্যেই গোল্ডেন গ্লোব ও ক্রিটিকস চয়েসে সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন। তাই অনেকেই মনে করছেন, এবারের অস্কারে তাঁর হাতেই উঠতে পারে সোনালি মূর্তি। তাঁর সামনে বাধা একটাই—অস্কারের ভোটাররা অনেক সময়ই কম বয়সীদের ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহী হন না। তাই ৩০ বছর বয়সী শ্যালামে পুরস্কার জিতলে তিনি হবেন এই বিভাগের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম জয়ী।
সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলির হাতেই উঠবে পুরস্কার
সেরা অভিনেত্রীর বিভাগে এগিয়ে আছেন আইরিশ অভিনেত্রী জেসি বাকলি। তিনি ক্লোয়ি ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছেন। এপিরিয়ড ড্রামায় বাকলির অভিনয়কে সমালোচকেরা ‘মায়াবী ও আবেগময়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। অস্কার মৌসুমে তিনি গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা, ক্রিটিকস চয়েস ও অ্যাক্টরস অ্যাওয়ার্ডসে পুরস্কার জিতে একপ্রকার অপ্রতিরোধ্য অবস্থান তৈরি করেছেন।
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: শন পেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা
এই বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ তীব্র হলেও অনেক বিশ্লেষক এগিয়ে রাখছেন শন পেনকে। তিনি ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ছবিতে কর্নেল স্টিভেন লকজও নামের কঠোর সামরিক কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এর আগে ‘মিল্ক’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কার জেতা এই অভিনেতা আবারও শক্তিশালী পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় এসেছেন।
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: তিয়ানা টেইলরের সম্ভাবনা
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর বিভাগে বেশ কয়েকজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও আলোচনায় এগিয়ে আছেন তিয়ানা টেইলর। ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ছবিতে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছেন।
সেরা পরিচালক: রায়ান কুগলারের শক্তিশালী অবস্থান
পরিচালনার বিভাগে অনেকের মতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী রায়ান কুগলার। তাঁর ছবি ‘সিনার্স’ ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। আগে তিনি ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’–এর মতো জনপ্রিয় ছবি নির্মাণ করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। সমালোচকদের মতে, ‘সিনার্স’–এ তাঁর নির্মাণশৈলী, রাজনৈতিক বার্তা ও শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল ভাষা তাঁকে সেরা পরিচালকের দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে।
সেরা ছবি: দুই সিনেমার শেষ লড়াই
সেরা ছবির বিভাগে সবচেয়ে আলোচিত দুটি ছবি—‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ ও ‘সিনার্স’। পল টমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’–এ অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। ছবিটি অ্যাকশন, ব্যঙ্গ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মিশেলে নির্মিত। অন্যদিকে রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ শক্তিশালী গল্প ও নির্মাণের জন্য প্রশংসা পেয়েছে। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিনোদনমূলক মুহূর্ত ও শক্তিশালী কাহিনির কারণে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকতে পারে ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’।
কে অস্কার জিতবেন—এ সবই এখন কেবল পূর্বাভাস। সত্যি সত্যি কার হাতে পুরস্কার উঠবে, সেটা জানা যাবে কাল সকালেই।
