ম্রুণাল ঠাকুরের সাক্ষাৎকারে উঠে এলো 'দো দিওয়ানে শেহের মে'র গল্প ও ব্যক্তিগত জীবন
অভিনেত্রী ম্রুণাল ঠাকুর সম্প্রতি মুম্বাইয়ে সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন। সেখানে তিনি তাঁর নতুন রোমান্টিক-কমেডি ছবি 'দো দিওয়ানে শেহের মে' এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রবি উদয়ার এবং এতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও ম্রুণাল ঠাকুর।
ছবির সাফল্য ও সহ-অভিনেতার সঙ্গে রসায়ন
বক্স অফিসে খুব বেশি ব্যবসা না করলেও 'দো দিওয়ানে শেহের মে' ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী ও ম্রুণাল ঠাকুরের অভিনয় বেশ আলোচিত হয়েছে। ম্রুণাল জানান, ছবির প্রচারণা ও শুটিংয়ের সময় তাঁদের মধ্যে প্রাকৃতিক বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, 'সিড (সিদ্ধান্ত চতুর্বেদী) কাজের প্রতি ভীষণ নিবেদিত। অনেকেই জনপ্রিয়তার মাঝে হারিয়ে যায়, কিন্তু ও নিজের কাজ নিয়ে খুব মনোযোগী।'
শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে ম্রুণাল মুম্বাই শহরকে নতুন করে চেনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি স্কুটি চালিয়ে শহরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান ঘুরেছেন, যা ছবিতে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
আত্মবিশ্বাসের সংগ্রাম ও সৌন্দর্য নিয়ে অভিজ্ঞতা
ম্রুণাল ঠাকুর ছাত্রজীবনে আত্মবিশ্বাসের অভাব ও ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে সংগ্রামের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, 'ইংরেজিতে মারাঠি টান থাকায় অস্বস্তি লাগত। উচ্চারণ নিয়ে মশকরা হতো। এমনকি আমার নাম নিয়েও অনেকে মজা করত।' তবে ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এসব বিষয়কে গুরুত্ব না দেওয়াই শ্রেয়।
ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও তাঁর সুখকর অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রথম ছবি 'লাভ সোনিয়া'র অডিশনের সময় ফোল্ডারে 'ডু নট ওপেন' লেখা থাকলেও পরিচালকের সদয়তা তাঁকে সুযোগ এনে দেয়। ম্রুণাল বলেন, 'তখনই বুঝেছি, শুধু সৌন্দর্য দিয়ে কিছু হয় না। সবার জীবনেই সংগ্রাম আছে।'
বিয়ে নিয়ে ভাবনা ও ব্যক্তিগত জীবন
ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গে ম্রুণাল ঠাকুর বিয়ে নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা খোলামেলাভাবে জানান। তিনি বলেন, 'আমি ছোটবেলা থেকেই বিয়ের স্বপ্ন দেখি। আমার কাছে বিয়ে খুব পবিত্র সম্পর্ক। যদি এমন কাউকে পাই, যার সঙ্গে মানসিকভাবে মিলবে, তাহলে ঝটপট বিয়ে করে নেব।' তবে তিনি জোর দেন যে সঠিক মানুষের সঙ্গে বিয়েই জরুরি, শুধু বিয়ের জন্য বিয়ে করা উচিত নয়।
জীবনসঙ্গীর জন্য তিনি এমন মানুষ চান যার নেতৃত্বগুণ আছে, পরিবারকে গুরুত্ব দেয় এবং তাঁর কাজকে সম্মান করে। ম্রুণালের মতে, 'বিয়ে জরুরি, কিন্তু সঠিক মানুষের সঙ্গে হওয়া আরও জরুরি।'
ছবির বিশেষত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
'দো দিওয়ানে শেহের মে' ছবিটি রক্তাক্ত প্রেমকাহিনির ভিড়ে আলাদা স্থান করে নিয়েছে বলে মনে করেন ম্রুণাল। তিনি বলেন, 'যাঁরা ভালোবাসায় বিশ্বাস করেন, তাঁরা আমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন। আমরা এমন একটি ছবি করতে চেয়েছি, যা প্রেমের আবেগকে আবার ফিরিয়ে আনবে।'
ছবির প্রযোজক সঞ্জয় লীলা বানসালির প্রশংসা এখনো ম্রুণালের মনে গেঁথে আছে। তিনি বলেন, 'সীতা রামম দেখার পর তিনি বলেছিলেন, "অনেক দিন পর এমন একজন মারাঠি মেয়ে এসেছে, যে কোনো শোরগোল না করে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করছে।" বিশ্বাস করুন, এটা আমার কাছে অনেক বড় প্রশংসা।'
হিন্দি ও দক্ষিণি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পার্থক্য নিয়ে ম্রুণাল হাসতে হাসতে বলেন, 'সবচেয়ে বড় পার্থক্য ভাষা। এখানে বড়াপাও, ওখানে ইডলি বড়া।' সব মিলিয়ে, ম্রুণাল ঠাকুর তাঁর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে সততা ও আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে এগিয়ে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।



