কল্কি ২৮৯৮ এডি সিনেমায় কমল হাসানের রেকর্ড পারিশ্রমিক
বলিউডের অন্যতম সায়েন্স ফিকশন ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ অভিনেতা কমল হাসানের জন্য একটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। নাগ আশ্বিন পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য পারিশ্রমিকের দিক থেকে বর্ষীয়ান অভিনেতা কমল হাসান এমন অংকের পারিশ্রমিক নিয়েছেন, যা তাকে বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেতাদের কাতারে শীর্ষে তুলে দিয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সিনেমায় অমিতাভ বচ্চনের মতো অভিনেতাকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পেয়েছেন কমল হাসান।
শুটিংয়ের সময় ও পারিশ্রমিকের বিস্তারিত
সিনেমাটিতে কমল হাসানকে দেখা গেছে এক শীর্ণ-জীর্ণ দৈত্যের মতো খলচরিত্রে। পর্দায় তার উপস্থিতি খুব বেশি সময়ের না হলেও গল্পের জন্য চরিত্রটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সময়ের শুটিং করেই তিনি পেয়েছেন আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক। দক্ষিণী অভিনেতা ও নির্মাতা যুগি সেতু জানিয়েছেন, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমার জন্য প্রায় ২০ দিন শুটিং করেন কমল হাসান। আর এর বিনিময়ে তিনি পারিশ্রমিক হিসেবে পান প্রায় ১৫০ কোটি রুপি।
যুগি সেতুর ভাষায়, “কমল স্যরের অভিনয়ের মানই আলাদা। ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমার জন্য ২০ দিন শুটিং করে তিনি পেয়েছেন ১৫০ কোটি রুপি। তাই আমি তাকে জন্মদিনে বলেছিলাম- এই মুহূর্তে আপনিই ভারতের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা।” তবে সিনেমাটির প্রযোজক সি অশ্বানি দত্ত ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তার দাবি, কমল হাসান মাত্র ১০ দিন শুটিং করেই এই ১৫০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। সে হিসেবে দৈনিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি রুপি।
অমিতাভ বচ্চনের পারিশ্রমিকের তুলনা
একই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন। বিভিন্ন অ্যাকশন দৃশ্যেও দেখা গেছে তাকে। তবে জানা গেছে, এই সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছেন প্রায় ২০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক। অর্থাৎ পারিশ্রমিকের অংকে অমিতাভ বচ্চনের চেয়েও কয়েক গুণ এগিয়ে কমল হাসান। এই পারিশ্রমিকের ব্যবধান বলিউডের অভিনেতাদের মধ্যে আয়ের বৈষম্য ও তারকাদের বাজার মূল্য সম্পর্কে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
সিনেমাটির সাফল্য ও ভবিষ্যৎ
২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’ সিনেমাতে আরও অভিনয় করেছেন প্রভাস ও দীপিকা পাড়ুকোন। মুক্তির পর বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক এই সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বর্তমানে সিনেমাটির দ্বিতীয় কিস্তির কাজও এগিয়ে চলছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বাজেট ও পারিশ্রমিকের রেকর্ড গড়তে পারে।
এই ঘটনা শুধু কমল হাসানের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বলিউডের অভিনেতাদের পারিশ্রমিক কাঠামো ও বাজার মূল্য নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে। সিনেমা শিল্পে অভিনেতাদের আয়ের এই রেকর্ড ভবিষ্যতে অন্যান্য তারকাদের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।



