ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যে কমল হাসানের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির প্রবীণ অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ কমল হাসান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, অন্য দেশের জ্বালানি নীতিতে হস্তক্ষেপ না করে নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কমল হাসান ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন।
সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন
কমল হাসান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "আমরা ভারতের জনগণ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক। দূরবর্তী বিদেশি শক্তির কাছ থেকে নির্দেশ নেওয়ার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাই টেকসই বিশ্বশান্তির ভিত্তি। পোস্টের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। বার্তাটিতে তিনি নিজেকে একজন গর্বিত ভারতীয় নাগরিক এবং তার দল মক্কাল নিধি মায়ামের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ও জ্বালানি সরবরাহ
এদিকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভারতকে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ মার্চের আগে জাহাজে তোলা তেল ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো কিনতে পারবে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই অনুমতি ৩০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এর মেয়াদ শেষ হবে ৪ এপ্রিল। এর মূল উদ্দেশ্য সমুদ্রে আটকে থাকা তেল দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, "বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের রুটে উত্তেজনার কারণে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ বিঘ্ন কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও জানান, ভারত ইতোমধ্যে রাশিয়ার তেল আমদানি কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ আংশিকভাবে মেনে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে। মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কাছাকাছি অবস্থান করা জাহাজে থাকা রাশিয়ান তেল দ্রুত পরিশোধন করে বাজারে ছাড়ার সুযোগ দিতে ভারতকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রভাব
এই ঘটনা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি নীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা যাচ্ছে। কমল হাসানের প্রতিক্রিয়া ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি প্রদান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
