অস্কারের দোরগোড়ায় জেসি বাকলি: 'হ্যামনেট' থেকে পুরস্কারের ঝুলিতে সাফল্যের ঝড়
জেসি বাকলি: অস্কারের অপেক্ষায় 'হ্যামনেট' তারকা

অস্কারের অপেক্ষায় জেসি বাকলি: পুরস্কার মৌসুমে একের পর এক জয়

পুরস্কার মৌসুম শুরুর পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জেসি বাকলি। ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত 'হ্যামনেট' সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ইতিমধ্যে গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা, ক্রিটিকস চয়েজ এবং সর্বশেষ অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন। এখন কেবল অস্কারের জন্য অপেক্ষা। সমালোচকদের ধারণা, তাঁর বর্তমান ফর্ম দেখে অস্কারে সেরা অভিনেত্রী হওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

অভিনয় জীবনের উত্থান: দুই দশকের যাত্রা

জেসি বাকলি দুই দশকের বেশি সময় ধরে সিনেমা ও মঞ্চে কাজ করছেন। শুধু অভিনয় নয়, গানেও তাঁর দক্ষতা প্রশংসনীয়। ২০০১ সালে প্রায় ৪০ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে রয়্যাল আইরিশ একাডেমি অব মিউজিকের 'হাই অ্যাচিভার' অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। ১৭ বছর বয়সে বিবিসির 'আই উড ডু এনিথিং' প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম পরিচিতি লাভ করেন। এরপর ভর্তি হন লন্ডনের রয়্যাল একাডেমি অব ড্রামাটিক আর্টে। অভিনয়ে স্নাতক শেষ করে টিভি সিরিজে যুক্ত হন। 'ট্যাবু', 'ফার্গো', 'চেরনোবিল'-এর মতো সিরিজে তাঁকে দেখা গেছে, মঞ্চে জুড লরের সঙ্গে করেছেন 'হেনরি দ্য ফিফথ'। ২০২২ সালে 'জেসি দ্য লস্ট ডটার' সিনেমার জন্য অস্কারে মনোনীত হয়েছিলেন, তবে তখনও বৈশ্বিক তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাননি।

'হ্যামনেট' সিনেমা: শোকের গভীর চিত্রায়ণ

অনেক সমালোচক বলেছেন, 'হ্যামনেট' ছবিতে জেসি বাকলি শোককে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা সম্ভবত আগে কখনো পর্দায় দেখা যায়নি। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উইলিয়াম শেকসপিয়ারের স্ত্রী অ্যাগনেস হ্যাথাওয়ের চরিত্রে বিলীন করেছেন। ভোগ সাময়িকীতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমি গান আর অভিনয়ের মধ্যে বড় হয়েছি। কৈশোর থেকে শিল্পচর্চার মধ্যে থাকায় অবচেতনভাবেই চরিত্রের চাহিদা বুঝতে পারি। এই সিনেমা সন্তান হারানোর শোক নিয়ে। শুটিং শুরুর আগে আমি কীভাবে চরিত্র হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি, এটা অনেকেই জানতে চান। সত্যি বলতে, আমি আলাদা কিছু করিনি।'

তিনি আরও ব্যাখ্যা করে বলেন, 'আমি জানতাম, এটা শোকে বিহ্বল এক মায়ের গল্প। কিন্তু সেটা ছিল চিত্রনাট্য, শুটিং শুরুর পর ধীরে ধীরে সেই শোক আমার ভেতরে প্রবেশ করে। শুরুতে যে ভয় কাজ করছিল, সেটাও কেটে যায়। এই সিনেমার অংশ হয়ে আমি সত্যই গর্বিত।'

অভিনয় যখন ওষুধ: ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প

পুরস্কার মৌসুমে সাফল্যের পর বিবিসি রেডিও ৪-এর 'ডেজার্ট আইল্যান্ড ডিস্ক' অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন জেসি। সেখানে কিশোরবেলায় মানসিক অসুস্থতার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই নিয়েও খোলাখুলি আলোচনা করেছেন। ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, অভিনয় তাঁর কাছে 'পানির মতো অপরিহার্য' ছিল এবং এই শিল্পই তাঁকে বাজে খাদ্যাভ্যাস ও বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, 'আমি জানতাম না, কীভাবে নিজের মতো করে বাঁচব। যদি সেরে না উঠি, তাহলে হয়তো গান, থিয়েটার কিছুই করা হবে না। আর এসব করতে না পারলে আমার বেঁচে থাকাও কঠিন হয়ে উঠবে।'

অ্যাক্টর অ্যাওয়ার্ডসে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে জেসি বলেন, তিনি এই শিল্পীসমাজের অংশ হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁর সহ-অভিনেত্রী এমিলি ওয়াটসনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। জেসি বাকলির এই যাত্রা শুধু পুরস্কারের নয়, শিল্পের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সংগ্রাম জয়েরও এক অনন্য উদাহরণ।