কারিনা কাপুর খানের বয়স নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি: 'আমি নিজের বয়স বাড়া নিয়ে আনন্দিত'
কারিনা কাপুর খান: বয়স নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

কারিনা কাপুর খানের বয়স নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি: 'আমি নিজের বয়স বাড়া নিয়ে আনন্দিত'

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান বয়স নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর তিনি ৪৬ বছরে পা দিয়েছেন। একসময় বলিউডে 'বয়স হওয়া মানেই শেষ' ধারণা প্রচলিত থাকলেও কারিনা সব ধারণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো পর্দায় দাপট দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বয়স নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন অভিনেত্রী।

অভিনয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সন্ধান

শুরুর দিকে কারিনাকে দেখা যেত গ্ল্যামার-নির্ভর সিনেমায়। কিন্তু আজ তিনি তাঁর অভিনয়কে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন। 'এখন আমি অভিনয় নিয়ে ভাবি, নিজেকে নিজেই চ্যালেঞ্জ করি। যেমন "দ্য বাকিংহাম মার্ডারস"-এ নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছি। এটা আমার জন্য সহজ ছিল না।' কেবল এই দৃশ্যই নয়, পুরো সিনেমাতেই প্রায় গ্ল্যামার ছাড়া অভিনয় করেছেন কারিনা। অভিনেত্রী জানান, তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সচেতনভাবেই।

শরীরের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ

একসময় তাঁর শরীর ছিল ভারতজুড়ে এক আলোচনার বিষয়। 'টাশান' ছবিতে কারিনার 'সাই জিরো' ফিগার নিয়ে ব্যাপক চর্চা হয়েছিল। কিন্তু এখন কারিনা কাপুরের শরীর নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। তিনি বলেন, 'আমি সাইজ জিরো ছিলাম, সাইজ টেনও হয়েছি। আমি সেটাই হতে চাই, যা নিজের কাছে ভালো লাগে।' এই সাক্ষাৎকারে কারিনা আরও যোগ করেন, 'ফ্যাশন বা কস্টিউমের ক্ষেত্রে আমি যেটা মুহূর্তে ভালো লাগে, সেটাই পরব, কিন্তু আমি চিরকাল অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত হতে চাই।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বয়সের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

কারিনা এখন আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, 'আমি ৪০-এ পা দেওয়ার পর সময়টা দারুণ উপভোগ করছি।' তাঁর মতে, বয়স কোনো দায় নয়, বরং এক প্রাকৃতিক পরিবর্তন, যা এড়িয়ে চলা যায় না। 'এখন ২০২৬ সাল চলছে...আমার বয়স ৪৬, দুই সন্তানের মা; আমি নিজের লুক নিয়ে খুশি,' যোগ করেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বয়স নিয়ে সামাজিক চাপের সমালোচনা

কারিনা কাপুর খান মনে করেন, বয়স নিয়ে উদ্বেগ মূলত অস্বীকার থেকে আসে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'আপনি কত দিন বয়সকে এড়িয়ে চলবেন? সমাজে নারীদের বয়স বাড়াকে ভালো চোখে দেখে না। কিন্তু আমি নিজের বয়স বাড়া নিয়ে আনন্দিত।' অভিনেত্রীর এই সাক্ষাৎকার বলিউডে বয়স নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

কারিনা কাপুর খানের এই স্পষ্ট বক্তব্য শিল্পজগতে বয়স নিয়ে আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তিনি প্রমাণ করেছেন যে বয়স শুধু সংখ্যা নয়, বরং অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। বলিউডের এই অভিনেত্রী তাঁর পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন।