জাংকুকের আত্মবিকাশ: সামরিক জীবন থেকে বিটিএসের নতুন অ্যালবাম পর্যন্ত
বিশ্বখ্যাত কোরিয়ান ব্যান্ড বিটিএসের সদস্য জাংকুক নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পপশিল্পীদের একজন। প্রায় ১৮ মাস সামরিক বাহিনীতে কাটানোর পর তিনি আবার গানের জগতে ফিরে এসেছেন। নিউইয়র্কের সানলিট স্টুডিওতে একটি গ্লোবাল কভার ফটোশুটের সময় তিনি তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন।
সামরিক জীবন ও ব্যক্তিগত রূপান্তর
জাংকুক সামরিক বাহিনীতে রাঁধুনি হিসেবে কাজ করেছেন, যা তাঁকে ধৈর্য ও সময়ের মূল্য শিখিয়েছে। তিনি বলেন, ‘মিলিটারি সার্ভিসের পর আমি আগের চেয়েও গভীরভাবে চিন্তা করতে শিখেছি। সময়ের ব্যাপারেও আগের চেয়ে সচেতন থাকি।’ এখন তিনি প্রতিদিনের খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর প্রতি বেশি মনোযোগী, যেমন খাওয়াদাওয়া। তিনি ডায়েট করছেন এবং দিনে একবার খান, যা তাঁর জন্য একটি বড় অর্জন বলে মনে করেন।
বর্তমানকে উপভোগ ও অতীত এড়ানো
জাংকুক বর্তমান নিয়ে ভাবতেই পছন্দ করেন, অতীত বা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে তাঁর ভালো লাগে না। পুরোনো ম্যাগাজিনে নিজের ছবি দেখে তিনি মজা করে বলেন, ‘কে এটা? আপনারা এ রকম একটা কভার কেন বেছে নিয়েছিলেন?’ তিনি নিজেকে বাস্তববাদী হিসেবে দাবি করেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় কম আসেন। ২০২৩ সালে তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিলেট করেছিলেন, যদিও ২০২৫ সালে ফিরে এসেছেন, কিন্তু এখনো কোনো পোস্ট নেই।
স্বাস্থ্য ও শৃঙ্খলার উপর জোর
জাংকুক এখন নিজের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। তিনি নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলেন, বোলিং ও জগিং করেন। ব্যায়াম করার সময় তিনি গান শোনেন না, বরং পুরো মনোযোগ নিজের দিকে রাখেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন নিজের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দেওয়ার চেষ্টা করছি। ব্যায়াম করার মাধ্যমে আমি মানসিকভাবে স্থির থাকি।’ প্রতিদিন গোসলের আগে এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে কার্ডিও করা তাঁর রুটিনের অংশ, যা তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
নতুন অ্যালবাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে জাংকুক বিটিএসের নতুন অ্যালবাম নিয়ে ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘নতুন অ্যালবামের জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। ব্যান্ডের অন্য মেম্বারদের সঙ্গে অ্যালবামের প্রচার চালাব, আর্মিদের সঙ্গে দেখা হবে, এসব ভাবতেই ভালো লাগছে।’ তাঁর ইচ্ছা আছে স্ট্রিট ড্যান্স আরও ভালোভাবে শেখার। তিনি সব সময় পরিবর্তন খুঁজেন এবং এমন একজন শিল্পী হতে চান যার কোনো সীমা নেই।
জাংকুকের এই যাত্রা শুধু গানের নয়, ব্যক্তিগত বৃদ্ধিরও। তিনি শিখেছেন সচেতনভাবে এগোতে এবং নিজের ছন্দ তৈরি করতে, যা তাঁকে বিশ্বব্যাপী অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
