জর্জ ও আমাল ক্লুনি হলিউডের চাকচিক্য পেছনে ফেলে ফ্রান্সে স্থায়ী হচ্ছেন
বিশ্ববিখ্যাত হলিউড অভিনেতা জর্জ ক্লুনি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনি তাদের পারিবারিক জীবনে এক বড় পরিবর্তন আনছেন। গ্ল্যামার ও ব্যস্ততার দুনিয়া ছেড়ে এই দম্পতি এখন ফ্রান্সের নিভৃত গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের আট বছর বয়সী যমজ সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে তারা এই নতুন জীবনযাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন।
ফ্রান্সের ব্রিগনোলেসে নতুন ঠিকানা
৬৪ বছর বয়সী জর্জ ক্লুনি এবং ৪৮ বছর বয়সী আমাল ক্লুনি ফ্রান্সের ব্রিগনোলেস এলাকার একটি শান্তিপূর্ণ খামারবাড়িতে তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করবেন। সম্প্রতি ফরাসি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সেখানে বসবাস শুরু করবেন বলে জানা গেছে। এই স্থানান্তরের মূল উদ্দেশ্য হলো সন্তানদের গোপনীয়তা বজায় রাখা এবং হলিউডের কোলাহলমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা।
সন্তানদের সুরক্ষাই প্রধান লক্ষ্য
এক সাক্ষাৎকারে জর্জ ক্লুনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে জনসাধারণের অতিরিক্ত মনোযোগ এবং পাপারাজ্জিদের থেকে সন্তানদের আড়ালে রাখতেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। তিনি ‘হ্যালো কানাডা’-কে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ‘এখানে (ফ্রান্সে) শিশুদের ছবি তোলা হয় না। স্কুলের গেটে কোনো পাপারাজ্জি লুকিয়ে থাকে না। আমাদের কাছে সন্তানদের সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তাই সবার আগে।’
দীর্ঘদিনের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা
জর্জ ক্লুনি দীর্ঘকাল ধরে তার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। ফ্রান্সের এই নতুন ঠিকানা এখন থেকে তাদের পরিবারের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকেই জর্জ ও আমাল ক্লুনির সম্পর্কটি পারস্পরিক মূল্যবোধ এবং গভীর অংশীদারিত্বের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বিবাহ ও পরিবার
২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভেনিসে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ২০১৭ সালে তাদের ঘর আলো করে যমজ সন্তানের জন্ম হয়। এই পরিবর্তনটি তাদের পারিবারিক জীবনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জর্জ ও আমাল ক্লুনি শুধু তাদের জীবনই নয়, বরং হলিউডের গ্ল্যামার দুনিয়ার প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন যে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিবারের সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্রান্সের শান্ত গ্রামীণ পরিবেশে তারা এখন একটি সহজ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের আশা করছেন।
