৬৬ বছরে নীনা গুপ্তার 'গর্ভবতী' গুজব: শাড়ির কাপড়ই দায়ী, বললেন অভিনেত্রী
বলিউডের প্রবীণ অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা সম্প্রতি ৬৬ বছর বয়সে গর্ভবতী হওয়ার গুজবের মুখোমুখি হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই গুঞ্জন নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন তিনি নিজেই। নীনা গুপ্তা জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং শাড়ির কাপড় মোটা হওয়ার কারণেই তার পেট উঁচু দেখাচ্ছিল।
গুজবের সূত্রপাত একটি অনুষ্ঠান থেকে
গত কয়েকদিন ধরে নেটদুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টিকারী এই গুজবের সূত্রপাত ঘটে অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দান্না ও বিজয় দেবরকোণ্ডার একটি রিসেপশন অনুষ্ঠান থেকে। সেখানে শাড়ি পরা অবস্থায় নীনা গুপ্তার উপস্থিতিতে তার পেট কিছুটা উঁচু দেখা যায়। অনেকেই এটিকে 'বেবি বাম্প' বলে ধরে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে গুজব ছড়াতে শুরু করেন যে, ৬৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী মা হতে চলেছেন।
নীনার স্পষ্ট ব্যাখ্যা
এই গুজব প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নীনা গুপ্তা প্রথমে হেসে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, "ব্যস, এটাই বাকি ছিল—বাস্তব জীবনে 'বাধাই হো'!" প্রসঙ্গত, 'বাধাই হো' সিনেমায় নীনা ৬০ বছর বয়সী এক নারীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যিনি হঠাৎ গর্ভবতী হয়ে পড়েন।
সেদিন তার পেট উঁচু দেখানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নীনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "এটা কোনো 'বাধাই হো'-এর ঘটনা নয়, আমি গর্ভবতীও নই। আসলে শাড়ির কাপড়টা একটু মোটা ছিল, তাই আমাকে ও রকম দেখাচ্ছিল।"
রসিকতা ও সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
পরে কিছুটা রসিকতার সুরে নীনা গুপ্তা যোগ করেন, "এই বয়সেও আমার গর্ভাবস্থা নিয়ে এমন জল্পনা হওয়াটা আমার ভালোই লেগেছে। এতে বোঝা যায়, আমরা একটি জাতি হিসেবে বদলাচ্ছি।" তার এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক ইতিহাস
উল্লেখ্য, নীনা গুপ্তার ব্যক্তিগত জীবন সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তার সঙ্গে একসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক থেকেই জন্ম নেন তাদের মেয়ে মাসাবা গুপ্তা। যদিও ভিভিয়ান শেষে স্ত্রী-পরিবারের কাছে নিজ দেশে ফিরে যান, তবুও নীনা গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত না নিয়ে মেয়ে মাসাবা গুপ্তার জন্ম দেন।
২০২৩ সালে ভিভিয়ান রিচার্ডস ও নীনা গুপ্তার মেয়ে মাসাবার বিয়ে হয়। সম্প্রতি মাসাবা নিজেও কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন, যা এই গুজবের সময়কালের সঙ্গে মিলে যায়।
সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা
এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে তথ্য ছড়ানোর গতি ও প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। একটি সাধারণ শাড়ির কারণে সৃষ্ট দৃশ্যমান পরিবর্তন কীভাবে দ্রুত গুজবে রূপ নিতে পারে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট। নীনা গুপ্তার মতো অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীকেও এমন গুজবের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা ডিজিটাল যুগের সংবাদ পরিবেশনের চ্যালেঞ্জকে উন্মোচিত করে।
অভিনেত্রীর রসিকতা ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, এই ঘটনা সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুমান ও গুজব তৈরি হওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করেছে। নীনা গুপ্তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যে, তিনি হাসিমুখেই এমন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সক্ষম, যা তার অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতারই পরিচয় বহন করে।
