ইকরার আত্মহত্যা: স্বামী জাহের আলভীর বিস্ফোরক দাবি ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ
ইকরার আত্মহত্যা: জাহের আলভীর বিস্ফোরক দাবি

ইকরার আত্মহত্যা নিয়ে স্বামী জাহের আলভীর বিস্ফোরক দাবি: অনৈতিক সম্পর্ক ও অতীত বিয়ের কথা উল্লেখ

আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় আলোচনার মধ্যেই তার স্বামী ও ছোটপর্দার অভিনেতা জাহের আলভী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে বিস্ফোরক দাবি করেছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) মধ্যরাতে দেওয়া এই পোস্টে তিনি ইকরার অনৈতিক সম্পর্ক, অতীত বিয়ে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছেন।

আইনি ব্যবস্থা মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি ও অভিযোগের তালিকা

আলভী দাবি করেছেন, ইকরার আত্মহত্যার বিষয়ে যদি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে তা মেনে নেবেন। একইসঙ্গে, তিনি ইকরার আরেকটি বিয়ে এবং অনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়েছেন। তার মতে, ইকরার মোবাইল ফোনে নিয়ন্ত্রিত একটি সিসিটিভি ক্যামেরা তাদের বাসার ড্রইং কাম ডাইনিং এলাকায় ছিল, যার এক্সেস তার কাছে কখনোই ছিল না। বর্তমানে সেই ফোনটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও বন্ধুদের আসার ঘটনা

আলভীর দাবি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পর ইকরার বন্ধুরা তাদের বাসায় এসেছিলেন। ২৫ ও ২৬ তারিখে এক বান্ধবী এবং ২৭ তারিখে দুই বান্ধবী ও এক পুরুষ বন্ধু মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলেন। তিনি বলেন, ওই সময় ধূমপান, গাঁজা সেবন ও মদ্যপান করা হয়েছিল। দুর্ঘটনার আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন, যা নিয়ে সহকারী পুলিশের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আলভী সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন, ওই তিন দিনের সিসিটিভি ফুটেজ যেন কোনোভাবেই মুছে ফেলা না হয়। তার মতে, ইকরার আচরণ দুর্ঘটনার আগের কয়েক দিনে স্বাভাবিক ছিল না এবং অতীতে তিনি একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

ফরেনসিক পরীক্ষা ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে উদ্বেগ

আলভী আরও উল্লেখ করেছেন, ইকরার মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষায় গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট হবে। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য অ্যাপের কথোপকথন, কললিস্ট ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য তদন্তে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন। নিজের ফোনও প্রয়োজনে পুলিশের কাছে দিতে তিনি প্রস্তুত আছেন।

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়েও আলভী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, আগের রাতে মদ বা মাদক গ্রহণ করা হলে তা রিপোর্টে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। তিনি শুনেছেন, পোস্টমর্টেমের আগে এটি ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছিল, তাই রিপোর্ট যেন পরিবর্তন না হয় সে বিষয়ে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনৈতিক সম্পর্ক ও অতীত বিয়ের বিস্তারিত

পোস্টে আলভী দাবি করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪১তম ব্যাচের ‘নাবিদ’ নামে একজনের সঙ্গে ইকরার অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এছাড়া, ২০১০ সালে পালিয়ে বিয়ে করার পরও তাকে ডিভোর্স না দিয়েই ইকরার পরিবার তার সম্মতিতে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছিল এবং সেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ও বাসর সম্পন্ন হয়েছিল। পরবর্তীতে ইকরা ভুল বুঝতে পেরে তার কাছে ফিরে এলে তিনি তাকে ক্ষমা করে গ্রহণ করেন।

আলভী লিখেছেন, এসব অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি বিশ্বাস করেন ইকরা তাকে ভালোবাসতেন এবং তিনিও ইকরাকে ভালোবাসতেন। পোস্টের শেষদিকে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন মহলের চাপ, ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং কর্মজীবনের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি চাপে আছেন। তিনি অনুরোধ করেছেন, ভবিষ্যতে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে মানুষ যেন তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে এবং তার সন্তানের স্বার্থে সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করে।