বিসিবি অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যু, ক্রীড়া জুয়া আইন ও বিসিবির আর্থিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
বিসিসিআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যুতে তামিম প্রথম মুখ খোলেন। তিনি বলেন, বিসিবির গত প্রশাসন বিষয়টি ঠিকভাবে সামলাতে পারেনি। আইসিসি যথেষ্ট নমনীয় ছিল, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ ছিল। আমাদের উচিত ছিল সেই সুযোগ কাজে লাগানো।
তিনি ১৯৯৬-৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের আবেগময় মুহূর্তের কথা স্মরণ করেন। জয়ের পর বাড়ি আবিরে ভেসে গিয়েছিল, মানুষ রাস্তায় আনন্দ করেছিল। সেই উদ্যাপনই দেশের বাচ্চাদের ক্রিকেটে টেনে এনেছিল। অথচ সেই আমরাই কোনো আলাপ-আলোচনা ছাড়াই বিশ্বকাপ হাতছাড়া করলাম, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি।
বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো। আইপিএলে একসঙ্গে খেলেছেন, মানহাস ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে বাংলাদেশে এসেছেন। তামিম বলেন, বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে এখন আর কোনো সমস্যা নেই। ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চমৎকার, স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক দ্বৈরথ উপভোগ করে। সিরিজ আয়োজন সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সেরা উপায়।
পিসিবির সংহতি ও বিশ্বকাপ বয়কট
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের সময় পাকিস্তানের সংহতি প্রসঙ্গে তামিম বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য কঠিন, কারণ তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ছিলেন না। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন যে আমরা একটি বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারিয়েছি এবং কিছু খেলোয়াড় হয়তো আর কখনো এমন সুযোগ পাবে না—এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় কষ্ট।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ সম্পর্কে তামিম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। তবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের কাছ থেকে জয় শাহ সম্পর্কে ইতিবাচক কথা শুনেছেন। তিনি আইসিসিকে একটি পরিবার হিসেবে দেখেন, যেখানে ১২-১৫টি দেশ মিলেমিশে থাকে, এবং একে অপরের খেয়াল রাখা উচিত।
অ্যাডহক কমিটির প্রয়োজনীয়তা
অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তামিম বলেন, গত বিসিবি নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ছিল, পরে সাতজন পরিচালক পদত্যাগ করেন। ঢাকার লিগগুলোতে ৭৬টি দলের মধ্যে প্রায় ৫০টি দল অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ক্রিকেটাররা পারিশ্রমিক পাচ্ছিলেন না, অনেককে পথে বসতে হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ হস্তক্ষেপ করে তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তিনি বলেন, তাঁর মানসিকতা পরিষ্কার—কাজটা করা দরকার, তাই করছি। হয় সাফল্য পাব, নয়তো ব্যর্থতা, যার দায় নিতে প্রস্তুত। নির্বাচনের জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা ৬০ দিনেই সম্পন্ন করবেন এবং নিশ্চিত করবেন বিশ্বকাপের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়।
ব্যাংকে জমা থাকা ১৩০০ কোটি টাকা
বিসিবির ১৩০০ কোটি টাকা ব্যাংকে পড়ে থাকা প্রসঙ্গে তামিম বলেন, আইসিসি বা স্পনসররা ফিক্সড ডিপোজিটের জন্য অর্থ দেয় না। এই অর্থ ক্রিকেটের উন্নয়ন ও অবকাঠামোতে ব্যয় করা উচিত। খেলোয়াড়দের ভারত, পাকিস্তান বা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলতে চাইলে তাদের সেরা সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। অন্তত খেলোয়াড় তৈরির পাইপলাইন ও অবকাঠামো তৈরি করা জরুরি।
ক্রীড়া জুয়া আইন
ক্রীড়া জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর আইনের পক্ষে তামিম। তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার, ক্রীড়ামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি তুলেছেন। তিনি শুধু বেটিং নয়, ক্রীড়াঙ্গনের সব ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন চান। বর্তমানে ধরা পড়লে নিষেধাজ্ঞা জুটলেও জেলে যাওয়ার ভয় না থাকায় দুর্নীতি কমছে না। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকে শেখানো উচিত যে বেটিংয়ে জড়ালে জেলে যেতে হবে।
তামিম বলেন, বিশ্বব্যাপী বাচ্চারা জুয়ার দিকে ঝুঁকছে, শুধু বাংলাদেশে নয়। তাদের বুঝতে হবে, চুরি করলে পুলিশ ধরবে, তেমনি বেটিংয়ে জড়ালেও জেলে যেতে হবে।



