থালাপতি বিজয়ের নতুন রূপ: দ্রাবিড় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে পেশাদার লুক
থালাপতি বিজয়ের নতুন রূপ: দ্রাবিড় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে পেশাদার লুক

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামের বাইরে প্রখর রোদে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছেন প্রিয় তারকার কাটআউটের নিচে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল, কেমন হবে থালাপতি বিজয়ের নতুন রূপ? কয়েক দশক ধরে দ্রাবিড় রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকা ধবধবে সাদা শার্ট আর ‘ভেস্তি’র (ধুতি) চিরাচরিত প্রথা ভেঙে বিজয় যখন গাড়ি থেকে নামলেন, তখন অনেকেরই চোখ ছানাবড়া।

পরনে ইস্ত্রি করা সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট; প্রথম দর্শনে মনে হতে পারে কোনও চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন। কিন্তু জয়ধ্বনি আর উন্মাদনার মাঝে বিজয় যখন স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢুকলেন, তখন গায়ে চড়িয়ে নিলেন একটি গাঢ় রঙের ব্লেজার। এটি কেবল একটি পোশাক নয়, বরং তামিল রাজনীতির মোড় পরিবর্তনকারী এক শক্তিশালী প্রতীক।

দ্রাবিড় রাজনীতির ঐতিহ্য ভাঙা

দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী মানেই ছিল কালো-লাল পাড়ের ধুতি আর সাদা শার্ট। কিন্তু বিজয়ের এই পেশাদার লুক জানান দিচ্ছে, দ্রাবিড় রাজনীতির একচ্ছত্র আধিপত্যের যুগে ফাটল ধরেছে। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মালিনী পার্থসারথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে ‘একটি যুগের অবসান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বিজয়ের এই পোশাক মূলত ‘জেন জি’ প্রজন্মের রাজনীতির উত্থানকেই প্রতিফলিত করছে। পরিসংখ্যানও বলছে, ২৯ বছরের নিচের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ ভোটারের মন জয় করেই ক্ষমতার মসনদে বসেছেন এই অভিনেতা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিজয়ের বক্তব্য

শপথ নেওয়ার পর বিজয় বলেন, ‘আমি ঈশ্বরের কোনও দূত নই, আমি আপনাদের মতোই একজন সাধারণ মানুষ। আমি জানি দারিদ্র্য আর ক্ষুধা কী। আমি কোনও রাজপরিবারে জন্ম নেইনি। একজন সহকারী পরিচালকের ঘরে জন্মে চলচ্চিত্রে সাফল্য পেয়েছি, আজ আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।’ তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি কোনও অভিনয় নয়, বরং বাস্তবেই পরিবর্তনের কারিগর হতে চান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেজরিওয়ালের সঙ্গে তুলনা

বিজয়ের এই ‘আম আদমি’ বা সাধারণ মানুষের ভাবমূর্তি অনেককেই দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কেজরিওয়ালও প্রথাগত সাদা পোশাক ছেড়ে বড় মাপের শার্ট কিংবা সোয়েটার পরে রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ আর ‘শীষমহল’ বিতর্কে কেজরিওয়ালের সেই স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ হয়েছে।

প্রচারণা থেকে শপথ

নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিজয় মূলত সাদা শার্ট, সাদা প্যান্ট আর লাল শাল ব্যবহার করতেন। কিন্তু শপথের দিন তিনি বেছে নিলেন সাদা শার্ট ও কালো প্যান্টের পেশাদার লুক। এক চিকিৎসক কার্তিক বালেচন্দ্রন যেমনটা লিখেছেন, ‘শৈশব থেকে দেখে এসেছি কালো হৃদয়ের মানুষগুলো সাদা শার্ট আর ভেস্তি পরে রাজনীতি করেন। বিজয় সেই প্রথা ভাঙছেন দেখে ভালো লাগছে।’