ভারতের তামিলনাড়ুর ইতিহাসে সাত দশক পর প্রথমবার ডিএমকে বা এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দল সরকার গঠন করেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর এই জয়ের পরই আলোচনায় এসেছে তাঁর বিপুল সম্পত্তি। নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, বিজয়ের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৬২৪ কোটি টাকা।
স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি
বিজয়ের মোট সম্পত্তির মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২২০ কোটি টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৪০৪ কোটি টাকা। তাঁর কোনো ঋণ নেই।
সেভিংস অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ
বিজয়ের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ জমা রয়েছে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে। ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকের সালিগ্রামাম শাখায় তাঁর অ্যাকাউন্টে ২১৩ কোটি টাকার বেশি জমা আছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর মোট আয় ছিল ১৮৪.৫৩ কোটি টাকা।
বিভিন্ন ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট
বিজয় মোট ১০০ কোটি টাকা ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রেখেছেন। এর মধ্যে অ্যাক্সিস ব্যাংকে ৪০ কোটি, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকে ২৫ কোটি, এইচডিএফসি ব্যাংকে ২০ কোটি এবং স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় ১৫ কোটি টাকা রয়েছে। তাঁর লিকুইড সম্পদের বড় অংশই ব্যাংক ডিপোজিটে বিনিয়োগ করা।
শেয়ার বাজারে সীমিত বিনিয়োগ
শেয়ার বাজারে বিজয়ের বিনিয়োগ অত্যন্ত সীমিত। তাঁর মোট ইকুইটি লগ্নির পরিমাণ ২০ লাখ টাকারও কম। জয়া নগর প্রপার্টি প্রাইভেট লিমিটেডে ১৯.৬৯ লাখ টাকা, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংকে ৯,৬০০ টাকা এবং সান পেপার মিল লিমিটেডের ২৫,০০০ টাকার শেয়ার রয়েছে।
চেন্নাইজুড়ে বিপুল রিয়েল এস্টেট
বিজয়ের স্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ২২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টি আবাসিক সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১১৫ কোটি টাকা, বাণিজ্যিক সম্পত্তি প্রায় ৮২.৮ কোটি টাকা, অনাবাদি জমি প্রায় ২২ কোটি টাকা এবং কোডাইকানালের ভাট্টাপাট্টি গ্রামে কৃষিজমি ২০ লাখ টাকা।
বিলাসবহুল গাড়ির সংগ্রহ
বিজয়ের নামে একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: ২০২৪ টয়োটা লেক্সাস ৩৫০ (৩.০১ কোটি টাকা), ২০২৪ বিএমডব্লিউ ১৭ (২ কোটি টাকা), ২০২৪ টয়োটা ভেলফায়ার (১.৬৩ কোটি টাকা), ২০২০ বিএমডব্লিউ ৫৩০ (৮০.৫ লাখ টাকা), ২০২৪ মারুতি সুইফ্ট (৫.৩৫ লাখ টাকা) এবং ২০২৫ টিভিএস এক্সএল সুপার (৬৭,৪০০ টাকা)।
স্বর্ণ ও পারিবারিক ঋণ
বিজয়ের কাছে ৮৮৩ গ্রাম স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১.২ কোটি টাকা। এ ছাড়া তিনি পরিবারের সদস্যদের ঋণ দিয়েছেন। স্ত্রী সঙ্গীতা বিজয়কে ১২.৬ কোটি টাকা, জেসন সঞ্জয়কে ৮.৭৮ লাখ টাকা এবং দিব্যা সাশাকে ৪.৬ লাখ টাকা দিয়েছেন।
বিজয়ের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে অভিনয় ও অন্যান্য পেশাগত আয়, ব্যাংকের সুদ এবং ভাড়া থেকে প্রাপ্ত টাকা। নগদ, ফিক্সড ডিপোজিট এবং সম্পত্তি নির্ভর এই রক্ষণশীল বিনিয়োগ কৌশলই তাঁকে দেশের অন্যতম ধনী অভিনেতা-রাজনীতিকে পরিণত করেছে। থালাপতি এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।



