গান গাইতে বলায় মেজাজ হারালেন কৈলাস খের, তুলনা শচীনের সাথে
গান গাইতে বলায় মেজাজ হারালেন কৈলাস খের

বিনোদন জগতে কনসার্ট বা অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পীদের গান গাওয়ার অনুরোধ করা নতুন কিছু নয়। প্রায়ই দেখা যায়, দর্শক বা সঞ্চালকরা শিল্পীদের অনুরোধ করেন এবং অধিকাংশ সময়ই শিল্পীরা হাসিমুখে সেই অনুরোধ রাখেন। তবে সম্প্রতি দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে বলায় রীতিমতো মেজাজ হারিয়ে ফেললেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কৈলাস খের।

অনুষ্ঠানে কী ঘটেছিল?

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দিল্লিতে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৈলাস খের। নির্দিষ্ট একটি বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্যই তিনি সেখানে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আলোচনার মাঝপথে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হঠাৎ তাকে গান গাওয়ার অনুরোধ করেন। এতেই ক্ষুব্ধ হন কৈলাস খের।

কৈলাসের প্রতিক্রিয়া

ক্ষুব্ধ কৈলাস খের বলেন, 'এ বিষয়টি নিয়ে আমি আপত্তি করতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়টি চলছে। এবার এটা পাল্টানো দরকার। যে কোনো মঞ্চে উঠলেই শিল্পীদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়। কিন্তু আমার মনে হয় এবার এটা বন্ধ করা দরকার। এমন আচরণ যেন আর কেউ না করেন।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, 'আপনারা কি শচীন টেন্ডুলকারকে কখনো বলবেন যে, একটা ছক্কা মেরে দেখান? নিশ্চয়ই বলবেন না। পৃথিবীতে অন্য কারও সঙ্গে কেন কেউ এ রকম আচরণ করেন না? শুধু শিল্পীদের সঙ্গেই কেন করা হয়? শিল্পীদের জোকার হিসেবে দেখাটা বন্ধ করা হোক।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৈলাস খেরের ক্যারিয়ার

কৈলাস খের তার ক্যারিয়ার শুরু করেন কোকা-কোলা, সিটি ব্যাংক, পেপসি, আইপিএল এবং হোন্ডা মোটরসাইকেলের মতো ব্র্যান্ডের জন্য জিঙ্গেল রেকর্ড করার মাধ্যমে। ২০০৩ সালে 'ওয়াইসে ভি হোতা হ্যায় পার্ট ২' সিনেমার 'আল্লাহ কে বান্দে' গানটির মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সাফল্য লাভ করেন। ২০০৪ সালে তিনি পরেশ ও নরেশ কামাথ ভাইদের সঙ্গে 'কৈলাসা' নামে তার ব্যান্ড গঠন করেন এবং ২০০৬ সালে তাদের প্রথম অ্যালবামে 'তেরি দিওয়ানি' গান ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় গানে পরিণত হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি 'সালাম-এ-ইশক: এ ট্রিবিউট টু লাভ' থেকে 'ইয়া রাব্বা', 'বাহুবলী: দ্য বিগিনিং' থেকে 'কৌন হ্যায় ভোহ' এবং 'বাহুবলী ২: দ্য কনক্লুশন' থেকে 'জয় জয়করা' ও 'জল রহি হ্যায় চিতা'সহ আরও অনেক হিট গান উপহার দিয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

কৈলাস খেরের এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একজন নেটিজেন বলেছেন, 'যদি দুই লাইন গান গেয়ে কারও মুখে হাসি ফোটানো যায়, তাহলে সেটা অন্যায় কিছু নয়।' আরেকজন বলেছেন, 'যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি আপনাকে এমন কথা বলতেন, তাহলে হয়তো আপনি আপত্তি করতেন না।' তৃতীয় একজন সহমত পোষণ করে বলেছেন, 'একদম ঠিক কথা বলেছেন, আপনারা তখন ঠিক গান গেয়ে দিতেন।'