দীপিকা পাড়ুকোনের মাতৃত্বের স্বপ্ন: অনেক সন্তানের মা হতে চান বলিউড তারকা
বলিউডের তারকা দম্পতি দীপিকা পাড়ুকোন ও রণবীর সিং তাদের দ্বিতীয় সন্তানের আগমন নিশ্চিত করেছেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ইনস্টাগ্রামে একটি যৌথ বার্তার মাধ্যমে এই খুশির খবর শেয়ার করার পর থেকেই ভক্ত ও সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তারা। তবে এই আনন্দের মাঝেই দীপিকার মাতৃত্ব নিয়ে পুরনো একটি সাক্ষাৎকার পুনরায় আলোচনায় এসেছে, যেখানে তিনি অনেক সন্তানের মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন।
২০১৭ সালের সাক্ষাৎকারে দীপিকার স্বপ্ন
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ২০১৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে দীপিকা পাড়ুকোন জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর আগে তিনি যে কাজটি অবশ্যই করতে চান তা হলো ‘অনেকগুলো সন্তানের মা হওয়া’। তিনি বলেছিলেন, ‘যদি আমি অভিনেত্রী না হতাম, তবে হয়তো আমি তিন সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতাম। আমি এমন একটি সুখী পরিবার চাই যেখানে কাজ এবং সন্তানদের সমান গুরুত্ব থাকবে।’ এই মন্তব্যে তার গভীর মাতৃত্বের ইচ্ছা ফুটে উঠেছে।
কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভবিষ্যৎ কল্পনা
এমনকি কান চলচ্চিত্র উৎসবে এক আলাপচারিতায় নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে গিয়ে দীপিকা বলেছিলেন, ৭০ বছর বয়সে তিনি নিজেকে সমুদ্রের ধারের একটি বাড়িতে অনেক নাতি-নাতনি পরিবেষ্টিত অবস্থায় দেখতে চান। এই স্বপ্ন তার পারিবারিক মূল্যবোধ ও দীর্ঘমেয়াদী সুখের প্রতিফলন ঘটায়।
দ্বিতীয় সন্তানের ঘোষণা ও পরিবারিক মুহূর্ত
১৯ এপ্রিল রণবীর ও দীপিকা তাদের বড় মেয়ে ‘দুয়া’র একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় ছোট্ট দুয়া একটি পজিটিভ প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট ধরে আছে। ক্যাপশনে তারা কেবল দুটি ‘ইভিল আই’ (নজর না লাগার প্রতীক) ইমোজি ব্যবহার করেছেন, যা তাদের সতর্কতা ও আনন্দের মিশ্রণ প্রকাশ করে। তাদের প্রথম সন্তান দুয়া ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিল, এবং এখন দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।
রণবীর-দীপিকার প্রেমের গল্প
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সঞ্জয়লীলা বানসালির ‘গোলিও কি রাসলীলা রামলীলা’র সেট থেকে শুরু হয় রণবীর-দীপিকার প্রেম। এই প্রেমের গল্প পরিণতি পায় ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর। ইতালির লেক কোমোতে কোঙ্কানি এবং সিন্ধি—উভয় রীতিতে তাদের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যা বলিউডের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
দীপিকা পাড়ুকোনের এই স্বপ্ন ও বর্তমান খুশির খবর তার ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং এটি তার ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাদার সাফল্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে।



