প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার অনুপ্রেরণাদায়ক জীবন ও সংগ্রামের গল্প
প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার অনুপ্রেরণার গল্প

বলিউড ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া সম্প্রতি 'ভোগ অ্যারাবিয়া'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের কর্মজীবন, সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক তার সেই অনুপ্রেরণাদায়ক বক্তব্যের মূল অংশগুলো।

অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, 'আমি চাই, প্রতিবার সেটে গেলে যেন অনুপ্রাণিত বোধ করি। ২৫ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার পর এখন আমি এমন সব কাজই বেছে নিই, যেসব আমাকে প্রতিদিন ভোরে উঠে সেটে যেতে উৎসাহিত করে।'

'দ্য ব্লাফ' সিনেমার চ্যালেঞ্জ

২৫ ফেব্রুয়ারি অ্যামাজন প্রাইমে মুক্তি পাওয়া 'দ্য ব্লাফ' সিনেমায় জলদস্যু চরিত্রে অভিনয় করা নিয়ে ৪৩ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'এটি শারীরিক ও মানসিক—দুই দিক থেকেই কঠিন ছিল। গল্পটি দেখায় একজন নারী নিজের পরিবারের জন্য কত দূর যেতে পারেন।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিযোগিতাপ্রবণ মনোভাব

নিজের প্রতিযোগিতাপ্রবণ মনোভাব নিয়ে তিনি বলেন, 'আমি এমন একজন, যে চ্যালেঞ্জ এলে শুধু টিকে থাকাই নয়, বরং সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়। আমি সব সময়ই প্রতিযোগিতাপ্রবণ ছিলাম—এমনকি নিজের সঙ্গেও।'

ইন্ডাস্ট্রিতে সংগ্রাম

ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের সংগ্রামের কথা স্মরণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'আমি কারও আত্মীয় ছিলাম না, তাই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা বা ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে সাহায্য করার মতো কেউ ছিল না। আমাকে খুব দ্রুত সবকিছু শিখতে হয়েছে। মানুষ সব সময় বলবে, আপনি পারবেন না; সেটাই সুযোগ, সেটাই চ্যালেঞ্জ। সেখান থেকেই নিজেকে প্রমাণ করার শুরু।'

আন্তর্জাতিক সাফল্য

আন্তর্জাতিক সাফল্য বা হলিউডে নিজের সংগ্রাম নিয়ে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, 'একটি দেশে আপনি যতই জনপ্রিয় হোন না কেন, অন্য দেশে গিয়ে একই রকম আচরণ পাওয়ার আশা করা উচিত নয়। পৃথিবীর যে প্রান্তেই যান না কেন, মানুষের ভালোবাসা আর সম্মান অর্জন করে নিতে হয়।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মেয়েকে নিয়ে অনুভূতি

চার বছর বয়সী কন্যা মালতি মেরি চোপড়া জোনাসকে নিয়ে তিনি বলেন, 'আমার পুরো অস্তিত্ব এখন ওকে ঘিরেই। ও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। নিক ও আমার সেরা অংশগুলোর প্রতিফলন।'

বহু সাংস্কৃতিক পরিবেশ

বহু সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলা বিষয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'আমাদের মেয়ে যেন বহু সাংস্কৃতিক পরিবেশে বড় হয়ে ওঠে, আমাদের দুজনেরই সেটাই চাওয়া। হোলি হোক বা থ্যাঙ্কসগিভিং—আমরা একই আন্তরিকতা ও গুরুত্ব নিয়ে সব উৎসব উদ্‌যাপন করি।'

নারীবাদ নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি

নারীবাদ নিয়ে প্রিয়াঙ্কার দৃষ্টিভঙ্গি, 'নিজের মনের কথা বলার যে তাগিদ, সেটা কখনোই হারাবে না। আমি শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেও সেটি প্রমাণ করার চেষ্টা করি।'

নারীদের পাশে থাকা

প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, 'আমি যতটা সম্ভব নারীদের মধ্যে থাকতে চেষ্টা করি। এটিই আমার কাছে কথার চেয়ে কাজের মাধ্যমে সমর্থন দেখানোর বাস্তব উপায়।'

জীবনের শিক্ষা

প্রিয়াঙ্কা 'ভোগ অ্যারাবিয়া'কে দেওয়া সাক্ষাৎকার শেষ করেছেন এভাবে, 'প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নিজেকে বলি, আমি হারব না। আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাপিয়ে যেতে চাই। জীবন থেকে শিখেছি, ব্যর্থতা মানে শেষ না; কখনো কখনো সেটাই আপনাকে সঠিক পথে নিয়ে যায়।'