কলকাতায় পুলিশের বাধায় রবীন্দ্রজয়ন্তীর শোভাযাত্রা আটক
কলকাতায় পুলিশের বাধায় রবীন্দ্রজয়ন্তীর শোভাযাত্রা আটক

পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন ২৫ বৈশাখ (আজ শনিবার ৯ মে) উপলক্ষে কলকাতায় একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়, কিন্তু পুলিশ তা আটকে দেয়। এই দিনটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠানের জন্যও নির্ধারিত ছিল, যা আগেই ঠিক করেছিল বিজেপি।

নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ ও রবীন্দ্রনাথের প্রতি শ্রদ্ধা

পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ শনিবার নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও পাঁচজন মন্ত্রী শপথ নেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের ছবি ছিল এবং বিজেপিদলীয় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর ছবিতে শ্রদ্ধা জানান।

রাজ্যে উৎসবের আমেজের অভাব

রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটি থাকে এবং সাধারণত রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ থাকে। কিন্তু আজ শনিবার রাজ্য মোটামুটি শান্ত ছিল। রাজ্যজুড়ে, বিশেষ করে কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে তেমন উৎসবের আমেজ দেখা যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে অনেকেই বলেছেন, তাদের অঞ্চলে বা পাড়ায় অন্যান্যবারের মতো মাইকে রবীন্দ্রসংগীত বাজানো হচ্ছে না এবং পাড়ায় পাড়ায় রবীন্দ্রজয়ন্তীও পালিত হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যেসব ক্লাব, স্কুল বা নাগরিক প্রতিষ্ঠান তাদের দপ্তর বা প্রাঙ্গণ থেকে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালন করত এবং গানবাজনা করত, তারা আজ শনিবার তা করেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্লাবের প্রাঙ্গণগুলো খোলাই হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই জানিয়েছেন, রবীন্দ্রনাথের গানের পরিবর্তে তাঁদের অঞ্চলে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবতা শ্রী রামের হিন্দি ভজন বাজানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উত্তর কলকাতায় শোভাযাত্রা ও পুলিশি বাধা

উত্তর কলকাতায় নাগরিক সমাজ একটি শোভাযাত্রা বের করেছিল। উত্তর কলকাতার বাগবাজারে মায়ের ঘাট নামে একটি ঘাট থেকে রবীন্দ্রনাথের বাড়ি হয়ে চিৎপুরে নাখোদা মসজিদে যাওয়া ছিল এই শোভাযাত্রার উদ্দেশ্য। কয়েক শ মানুষ রবীন্দ্রনাথের গান গাইতে গাইতে, মিছিলের সামনে একটি ব্যানার ধরে বাগবাজার থেকে এগোতে শুরু করেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘মুক্ত করো ভয়’।

উদ্যোক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোভাযাত্রার ভিডিও প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ১০০ থেকে ১৫০ মিটার এগোনোর পরে কলকাতা পুলিশ তা আর এগোতে দেয়নি। যতক্ষণ শোভাযাত্রাটি এগোতে পেরেছে, ততক্ষণ সামনের সারিতে থেকে গান গেয়েছেন শিল্পী মৌসুমী ভৌমিক।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য

শোভাযাত্রায় ছিলেন কলকাতার একাধিক তথ্যচিত্র নির্মাতা, নাট্যকর্মী, সাংবাদিক, অধ্যাপক ও শিক্ষার্থী। মিছিলে উপস্থিত এক তথ্যচিত্র নির্মাতা প্রথম আলোকে বলেন, ‘গান গাইতে গাইতে আমরা বাগবাজারের ঘাট থেকে কিছুটা এগোলে পুলিশ বাধা দেয়। যে মাঠে বাগবাজারের দুর্গাপূজা হয়, সেই মাঠে পুলিশ মিছিলটি ঢুকিয়ে দেয়। তারপর সেখানে কবিতা আবৃত্তি, গান ইত্যাদি করা হয়। কয়েকজন বক্তৃতাও করেন।’

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, পুলিশ কাউকে মারধর করেনি বা বলপ্রয়োগ করেনি। শোভাযাত্রার উদ্যোক্তাদের তরফে বলা হয়েছে, এই প্রথম রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক সমাজকে মিছিল করতে দেওয়া হলো না।

ক্ষমতাসীন দলের প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।