মারকাযু শাহাবুদ্দিন আল ইসলামি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও ইসলামি বক্তা মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী সম্প্রতি আইডিয়াল ম্যারেজ ব্যুরোর (আইএমভি) মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মাদানীর বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (৭ মে) মাদানী তার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব!’ শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি আইএমভির ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী ব্যক্তিদের মিলিয়ে দেয়। তিনি দাবি করেন, তার প্রথম স্ত্রীকে ফরম পূরণের বিষয়টি আগেই জানানো হয়েছিল এবং বিয়ের সময় স্ত্রীর গর্ভাবস্থার সঙ্গে মিলে যাওয়া একটি কাকতালীয় ঘটনা।
মাদানী আরও বলেন, তিনি স্ত্রীর অপারেশনের সময় হাসপাতালে ৪ দিন রাত-দিন পাশে ছিলেন এবং তার যত্ন নিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে তার স্ত্রী কখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তবে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত।
আইএমভি ও কাসেমী প্রসঙ্গ
আইএমভির প্রতিষ্ঠাতা মুফতি মামুনুর রশিদ কাসেমীর বিরুদ্ধে পূর্বে তার তৃতীয় স্ত্রী তামান্না হাতুন গুরুতর অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, আইএমভি নারীদের ১-২ মাসের জন্য কন্টাক্টে বিয়ে দেয় এবং বড়লোকদের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়। তবে মাদানী তার পোস্টে কাসেমীর প্রশংসা করে বলেন, তিনি চারটি বিয়ে করেছেন এবং তার স্ত্রীরা সন্তুষ্ট। মাদানী আরও বলেন, আইএমভি বিধবা ও অসহায় মেয়েদের জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে।
সমালোচনার জবাব
মাদানী সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, অনেকে কুরআনে বর্ণিত একাধিক বিয়ের বিধানকেই অপছন্দ করে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে আলেমবিদ্বেষী মানুষ এপস্টিন ফাইলস বা বড় নেতাদের রক্ষিতা রাখার বিষয়ে এত কথা বলেনি, যতটা তার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, তার কাছে মনে হয় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার চেয়েও তার দ্বিতীয় বিয়ে বড় অপরাধ বলে মনে করছে তারা।
মাদানী তার পোস্টে স্বীকার করেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে তার ভেতরে অপরাধবোধ জন্মেছে, তবে তিনি প্রথম স্ত্রীর কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে চান।



