মায়ের মুখে শোনা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ভয়াল রাতের স্মৃতি শেয়ার করলেন জয়া আহসান
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ একটি বিভীষিকাময় ও রক্তাক্ত রাত হিসেবে চিহ্নিত। এই রাতের স্মৃতি এখনো বহন করে চলেছেন অনেকেই, যার গল্প প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসানও তাঁর মা রেহানা মাসউদের কাছ থেকে শোনা এমনই একটি মর্মস্পর্শী স্মৃতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন, যা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে স্মরণ করিয়ে দেয়।
তরুণী রেহানা মাসউদের বাংলাদেশ টেলিভিশনে গান পরিবেশন
জয়া আহসান তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালে তাঁর মা রেহানা মাসউদ ছিলেন একজন তরুণী সংগীতশিল্পী। তিনি সে সময় প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ লাকী আখান্দের তত্ত্বাবধানে গান করতেন এবং দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে যান। সেখানে লাকী আখান্দ, শম্পা রেজা এবং আরও কয়েকজন শিল্পীর উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
হঠাৎ খবর ও আতঙ্কের ছড়িয়ে পড়া
গভীর রাতে হঠাৎ করেই খবর আসে যে ভয়ংকর কিছু ঘটতে চলেছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে শুরু করে এবং আতঙ্ক চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। জয়া আহসানের মা রেহানা মাসউদ বাইরে বের হয়ে দেখেন, রাস্তাজুড়ে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি। তিনি কোনোরকমে একটি স্কুটার জোগাড় করে বাড়ি ফিরে আসেন। এরপরই নেমে আসে সেই ভয়াল রাত, যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বর্বর গণহত্যা চালায়।
জেনোসাইড হিসেবে উল্লেখ ও শ্রদ্ধা নিবেদন
জয়া আহসান এই ঘটনাকে বিশ্বের অন্যতম নৃশংস জেনোসাইড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘এমন অকল্পনীয় জেনোসাইড পৃথিবী কমই দেখেছে। এই জেনোসাইডের স্মৃতি আমাদের ইতিহাসের সঙ্গে মিশে আছে। যত দিন বাংলাদেশ আছে, তত দিন এর স্মৃতি আমাদের অন্তরে জেগে থাকবে।’ পোস্টের শেষে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
এই শেয়ার করা স্মৃতি শুধু একটি পরিবারিক গল্পই নয়, বরং এটি আমাদের জাতীয় স্মৃতির অংশ, যা নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। জয়া আহসানের এই উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহাসিক সত্যকে সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে।



