বাগদাদে বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের মিত্র ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর দুই সদস্য। পবিত্র শহর নাজাফে ইমাম আলীর মাজারে তাঁদের কফিন নিয়ে যাওয়া হয়।
যুদ্ধের ছায়ায় বাগদাদ
বাগদাদের রাস্তা দিয়ে সম্প্রতি আমি গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। আমার পাশের গাড়ির পেছনের সিটে বসা এক বৃদ্ধার দৃষ্টি পড়েছিল রাস্তার ধারে ময়লার স্তূপের পাশে ধুলাবালুতে মিশে থাকা এক শীর্ণকায় শিশুর ওপর। ময়লার স্তূপ হাতড়ে শিশুটি এক প্যাকেট চিপস খুঁজে পেল। মনে হচ্ছিল প্যাকেটটি তখনো খোলা হয়নি। শিশুটি এমনভাবে চিপসের প্যাকেটটি তুলে ধরল, যেন মনে হলো কোনো এক মূল্যবান পুরস্কার পেয়েছে।
২০২৫ সালে ইরাকের ৯৪ বিলিয়ন ডলার আয়ের সিংহভাগই এসেছে তেল থেকে। অথচ অনানুষ্ঠানিক খাতে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কাছে এর সামান্যই পৌঁছেছে। একদিকে দেশ এখনো আগের যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ থেকে বের হতে পারেনি, তার ওপর যোগ হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যুদ্ধ। ইরানের মিত্র বেশ কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস, ন্যাটোর সৈন্য, ইরানবিরোধী কুর্দি মিলিশিয়া এবং দক্ষিণের আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এমনকি বাগদাদে খোদ ইরাকি গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরেও একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে।
ইরাকের ভেতরের দ্বন্দ্ব
যখন ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির খবর সামনে এল, তখন ইরাকিরা তাদের নেতাদের 'বিশ্বাসঘাতক' বলে ধিক্কার দিয়েছিল। একই সঙ্গে শত্রুরাষ্ট্রকে নিজেদের জায়গা ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তারা সরকার-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদেরও তীব্র সমালোচনা করেছিল।
অন্যদিকে রকেট হামলায় ছয়জন পেশমার্গা সেনা নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন পরই স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির বাড়ি লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর শিয়া মিলিশিয়াদের জোট 'পিএমএফ' দাবি করে, উত্তর ইরাকের কিরকুকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের তিনজন যোদ্ধা মারা গেছেন।
আল-আনবার প্রদেশে পিএমএফের একটি কমান্ড সদর দপ্তরে মার্কিন বিমান হামলায় ১৫ জন যোদ্ধা নিহত হন এবং পার্শ্ববর্তী আল-হাব্বানিয়াহ সামরিক ঘাঁটিতে আরেকটি হামলায় সাতজন সেনা নিহত এবং ১৩ জন আহত হন। পিএমএফ দাবি করেছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় তারা এ পর্যন্ত মোট ৮০ জন সদস্যকে হারিয়েছে।
শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী 'কাতায়িব হিজবুল্লাহ'র বেশ কয়েকজন কমান্ডার রাজধানীর আবাসিক এলাকায় অজ্ঞাত বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। তবু সব শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী এই লড়াইয়ে যোগ দিতে সমান আগ্রহী ছিল না।
মানুষের অপচয়
সেদিন বিকেলে আল-মনসুর এলাকার এক মোড়ের বিলবোর্ডে চোখ আটকে গেল। সেখানে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি, হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ, কাতায়িব হিজবুল্লাহর আবু মাহদি আল-মুহান্দিস এবং বেশ কয়েকজন মিলিশিয়া যোদ্ধাকে। ইমাম মাহদির দিকে ইঙ্গিত করে বিলবোর্ডে লেখা, 'আমাদের হাতিয়ার, আমরা ইমাম আল হুজ্জাহর কাছে ঋণী'। শহীদদের উদ্দেশে লেখা এই নীরব বার্তার গভীর অর্থ বুঝতে সাধারণ মানুষের বাড়তি কোনো কথার প্রয়োজন হয় না।
বাগদাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরতলিতে ঢোকার মুখে আলী খামেনির মুখচ্ছবি আঁকা মিলিশিয়াদের পতাকাগুলো বাতাসে উড়ছিল। খামেনি যেন এখন সাদ্দাম হোসেনের জায়গা নিয়েছেন; দেয়ালজুড়ে তাঁর ছবি এমনভাবে ঝুলছে যেন তিনি এই শহরেরই কোনো আব্বাসীয় শাসক। তাঁর মৃত্যুতে যারা সামান্য স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার সাহস করেছিল, তাদের অনলাইনে হেনস্তা ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই এখানে নীরবতাই একমাত্র আশ্রয়। যত যোদ্ধা মারা যাচ্ছেন, শহরটি তত বেশি শিয়া প্রতীক ও ভাবধারায় ডুবে যাচ্ছে।
ফরাসি দার্শনিক জর্জ বাতাই লিখেছিলেন, 'কাল্টের জন্য প্রয়োজন মানুষের রক্তক্ষয়ী অপচয়'। ২০১৪ সালে শিয়া ধর্মগুরু আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানির ফতোয়া জারির পর আইএসের বিরুদ্ধে লড়তে 'পিএমএফ' গঠিত হয়েছিল। তরুণদের আত্মত্যাগই শুরুতে এই বাহিনীকে পবিত্র রূপ দেয়। তবে দেশপ্রেমের ভাবমূর্তি নিয়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের শিয়া রাজনৈতিক স্বার্থের ঢাল বানিয়ে ফেলা হয়। এখন আইএসের পরাজয়ের পরও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে তাদের আরও নতুন রক্তের প্রয়োজন পড়ছে।
যত দিন মার্কিন ও ইসরায়েলি নেতারা যুদ্ধকে এক পবিত্র 'ক্রুসেড' মনে করবে এবং যুদ্ধের সব নিয়ম ভাঙার মধ্যে আনন্দ খুঁজবে, আর যত দিন কাতায়েব সায়্যিদ আল-শুহাদা ও হারাকাত আল-নুজাবার মতো মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই সংঘাতকে তাদের 'অস্তিত্বের লড়াই' হিসেবে দেখাবে, তত দিন এই যুদ্ধ এক অন্তহীন মরণখেলায় পরিণত হয়ে থাকবে।
তবু এই দুই পক্ষ কোনোভাবেই সমান নয়। একদিকে রয়েছে একটি নয়া সাম্রাজ্যবাদী জোট, অন্যদিকে রয়েছে এই অঞ্চলের মানুষের প্রতিরোধ, যারা নিজেদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই পরিবর্তন মেনে নিতে নারাজ। তবে এর মধ্যে সাধারণ ইরাকিদের ওপর যে কী ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে, তা এখনো আশানুরূপ মনোযোগ পায়নি।
দখলদারির দীর্ঘ ছায়া
জর্জ বুশ ও টনি ব্লেয়ারের সেই আগ্রাসনের পর ইরাক এখনো জিম্মি হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ২০০৩ সালের হামলার পর তারা যে শিয়া রাজনৈতিক শ্রেণিকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল, তারা যেন ইরানের ওপর নির্ভর করা বন্ধ করে এবং নিজেদের সশস্ত্র দলগুলোকে নিরস্ত্র করে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এই সশস্ত্র দলগুলোই এখন ইরাক রাষ্ট্রের মূল শক্তিতে পরিণত হয়েছে; ফলে এদের দমানো শিয়া শাসকদের পক্ষে কখনোই সহজ ছিল না।
জানুয়ারিতে শিয়া জোট 'কো–অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক' (CF) ইরানের ঘনিষ্ঠ নুরি আল-মালিকিকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত করে। আল-মালিকি দায়িত্ব গ্রহণ করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'ইরাককে আর কোনো সাহায্য না করার' হুমকি দেন। ফলে বাধ্য হয়ে জোটটি আল-মালিকির বদলে ওয়াশিংটনের সুনজরে থাকা আলী আল-জাইদিকে বেছে নেয়।
নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা হওয়া ইরাকের তেল রাজস্বের ওপর ওয়াশিংটন শক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। সম্প্রতি তারা শাস্তিস্বরূপ ইরাকে নগদ অর্থ পাঠানো বন্ধ করে দেয়, যাতে সেখানে ইরানবিরোধী একটি সরকার গঠন করা যায়, যা আসলে অবাস্তব। তবে আল-জাইদি রাষ্ট্রকে বাইরে থেকে স্বাধীন দেখালেও পর্দার আড়াল থেকে আসল কলকাঠি নাড়বে কো–অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কই।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং মিলিশিয়াদের হামলায় ইরাকের সংকট আরও বেড়েছে। ফলে দেশটি বিদেশি কোম্পানিগুলোর তেল উত্তোলনে 'ফোর্স-ম্যাজিউর' ঘোষণা করতে ও উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্পের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়ার সামান্য চেষ্টা করলেই ইরাকের তেলনির্ভর অর্থনীতি ভেঙে পড়তে পারে; এমনকি সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এপ্রিলেই বাজারে টমেটোর দাম তিন গুণ বেড়েছে আর মুরগির খাবারের দাম বাড়ায় ডিম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আমার এলাকার এক মুদিদোকানি বললেন, 'সবকিছু এখনো ইরান থেকেই আসে।'
স্থিতিশীল অস্বাভাবিকতা
কিছু শিয়া নেতা ওয়াশিংটনের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে এসব হামলা থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। তবে কাতায়িব হিজবুল্লাহর মতো মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এখনো অনড় এবং তারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আসলে দুর্বল ইরাক রাষ্ট্র ও তার নিরাপত্তাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই এই আধা সামরিক বাহিনী এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের নিজেদের ব্যবস্থার ভেতরেই জায়গা দিয়ে আসছে।
সুন্নিদের মতোই শিয়া অভিজাতরা শত শত কোটি ডলার আত্মসাৎ করে তাদের অনুসারীদের পকেট ভরিয়েছে। এখানে দুর্নীতি কোনো সমস্যা নয়, এটাই শাসনপদ্ধতি। দায়মুক্তি ও পুনর্বাসনের এক দ্বিমুখী কাঠামোর ওপর ভর করেই এই 'স্থিতিশীল অস্বাভাবিকতা' টিকে আছে। তেলের টাকা, কালোবাজারি আর সাম্প্রতিক আবাসন খাতের রমরমা ফাটকাবাজির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই লাভজনক ব্যবস্থা এখন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের লুটেরাদের এক করে দিয়েছে।
বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-সুদানির আমলের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়ন দেখে বাইরের মানুষ ভেবেছিল ইরাকে এক সমৃদ্ধ যুগের শুরু হয়েছে। কিন্তু যখন একের পর এক ড্রোন এসে টাইগ্রিস নদীতে পড়তে শুরু করল আর সদ্য আধুনিক হওয়া রাস্তাগুলো দিয়ে লাশের মিছিল চলল, তখন ইরাকের এত দিনের সুপ্ত জরুরি অবস্থা এক প্রকাশ্য সংকটে রূপ নিল।
ইরাকি স্বাধীনতার ভূত
গত ৭ এপ্রিল আমাদের পাড়ারই একটা খালি ঘরে এসে পড়ে মিলিশিয়াদের ছোড়া রকেট। আরেকটি রকেটে পাশের এলাকার আট বছরের এক স্কুলপড়ুয়া ছেলে মারা যায়। রকেট হামলার সেই বিকট শব্দ, তীব্র আতঙ্ক আর পরের খবরগুলোর সঙ্গে আমরা বড্ড বেশি পরিচিত।
আমি ভাবছিলাম, বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ কীভাবে আমাদের জীবনকে তাড়া করছে এবং আমাদের কথাবার্তার অংশ হয়ে গেছে। 'অপারেশন ইরাকি ফ্রিডম' আজও এই শহরের মানুষের প্রতিটি কথায় এক ভুতুড়ে স্মৃতির মতো গেঁথে আছে। এতগুলো দশক পেরিয়ে এসেও মৃত্যু যেন এখনো আমাদের খুব কাছ থেকে হাতছানি দিচ্ছে।
২০০৩ সালের সেই ভয়াবহ হামলার পর ইরাকিদের আজ আবারও এমন এক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের বিশ্বজোড়া দাপট ধরে রাখার ব্যর্থ চেষ্টামাত্র। যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতের পাশাপাশি ইরাকিদের এখন লড়তে হচ্ছে একদল অযোগ্য ও সুবিধাবাদী শাসকের বিরুদ্ধে, যাদের তারা নিজেরা কখনোই বেছে নেয়নি। এই শাসকেরা মূলত ২০০৩ সালে মার্কিন প্রশাসক পল ব্রেমার ও তাঁর সহযোগীদের তৈরি করা শাসনব্যবস্থারই উত্তরসূরি।
গত ২৭ মার্চ ঘোষণা করা হয়, ইরাকের 'সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সম্মান জানিয়ে' সন্ত্রাস দমন ও প্রতিবেশীদের ওপর হামলা ঠেকাতে একটি যৌথ মার্কিন-ইরাকি কমিটি গঠন করা হবে। এখন একদিকে দেশকে ধ্বংসকারী যুক্তরাষ্ট্র, আর অন্যদিকে তার চরম শত্রু তেহরান—এই দুইয়ের মধ্যে নিজেদের পরাধীন শাসকদের দোদুল্যমান অবস্থা দেখে ইরাকিরা যদি প্রশ্ন তোলে, আসলে এই 'সার্বভৌমত্ব' জিনিসটা কোথায়, তবে তাদের মোটেও দোষ দেওয়া যায় না।
যখন ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির খবর সামনে এল, তখন ইরাকিরা তাদের নেতাদের 'বিশ্বাসঘাতক' বলে ধিক্কার দিয়েছিল। একই সঙ্গে শত্রুরাষ্ট্রকে নিজেদের জায়গা ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তারা সরকার-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াদেরও তীব্র সমালোচনা করেছিল।
তবে এটা ভাবা মস্ত বড় ভুল হবে যে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে যখন নিজেদের পিএমএফ ভাইদের ওপর নির্বিচার হামলা চালানো হয়, তখন এই মানুষগুলো আনন্দ করবে। কোনো আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য হওয়াই তার হত্যাকাণ্ডকে জায়েজ করে না। তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরাকিরা মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের শিকার। তাই ইরানের আয়াতুল্লাহদের বাঁচাতে মিলিশিয়াদের এই উন্মাদনাকে ইরাকিরা সমর্থন না করার মানে এই নয় যে তারা মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলাকে স্বাগত জানাচ্ছে। আধা সামরিক যোদ্ধা ও সাধারণ সৈন্যদের এই অকালমৃত্যুতে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ আজও গভীরভাবে শোকাহত।
নীরব থাকা যদি কোনো পথ হয়েও থাকে, তবে যাঁরা মুখ বুজে আছেন, তাঁদের খুব শিগগির চিরতরে হারিয়ে যেতে বাধ্য করা হবে। ইরাকে যেখানে খোদ গোয়েন্দা সংস্থাই হামলার শিকার হয়, আর প্রভাবশালী পাসপোর্টধারী সাংবাদিকদের দিনদুপুরে তুলে নেওয়া হয়, সেখানে স্থানীয় সমালোচকদের কপালে যে কী জুটবে, তা বলাই বাহুল্য।
নাবিল সালিহ বাগদাদের একজন লেখক এবং আলোকচিত্রী। টাইম পত্রিকা থেকে অনূদিত।



