তাসকিন-নাইমার প্রেমের শুরু স্কুলে, ঈদের স্মৃতি ও ভক্তদের ব্লক করার গল্প
তাসকিন-নাইমার প্রেমের শুরু স্কুলে, ঈদের স্মৃতি

তাসকিন-নাইমার প্রেমের শুরু স্কুলে, ঈদের স্মৃতি ও ভক্তদের ব্লক করার গল্প

সম্প্রতি একটি ক্রীড়াবিষয়ক অনলাইন ঈদ ফেস্টে অতিথি হয়ে দেশের গতিময় পেস বোলার তাসকিন আহমেদ ও তার স্ত্রী সৈয়দা নাইমা রাবেয়া তাদের একসাথে পথচলার স্মৃতিচারণ করেছেন। ২০১৭ সালে পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির প্রেমের শুরু স্কুলে পড়ার সময় থেকেই।

প্রেমের শুরু ২০১০ সালে

তাসকিন আহমেদ ও সৈয়দা নাইমা রাবেয়ার পরিচয় স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। তবে ২০১০ সালে তাসকিনের ছোট বোন রোজার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নাইমার প্রতি তার ভালো লাগা শুরু হয়। তাসকিন বলেন, "আমরা একসাথে স্কুলে পড়তাম। ভালো লাগা শুরু হয়েছে আমার ছোট বোন রোজার জন্মদিনে বোরকা ছাড়া প্রথম দেখার পর। তখন মনে হল এখন তো সুন্দর লাগতেছে।"

এরপর থেকে ফোনে কথা বলার মাধ্যমে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাসকিন তখন অনূর্ধ্ব-১৯ দলে ক্রিকেট খেলতেন এবং পড়াশোনা নিয়েও ব্যস্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে তাদের সম্পর্ক পূর্ণতা পায় বিয়ের মাধ্যমে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঈদের স্মৃতি ও পরিবারের গুরুত্ব

ঈদ নিয়ে তাসকিন বলেন, "ঈদ সবসময় স্পেশাল। বিয়ের আগের ঈদগুলো বেশি আনন্দের ছিল কারণ আমি তখন আরও ছোট ছিলাম। সালামি নেওয়ার তাড়না এবং ঈদের শপিংয়ের এক্সাইটমেন্ট যত দিন যাচ্ছে, কমছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "এখনও ঈদ অনেক স্পেশাল। তবে মাথায় থাকে ঈদ কীভাবে আরও পরিবারের সবার জন্য স্পেশাল করা যায়। আমি বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৬৫ দিনই খেলার কাজে ব্যস্ত থাকি। মা হিসেবে নাইমার তিনটি বাচ্চা সামলানো অনেক কঠিন। আমি চেষ্টা করি যেভাবে পরিবারের সবাইকে খুশি রাখা যায়।"

নাইমা ঈদ পালনের ব্যাপারে বলেন, "সব থেকে বড় সালামিটা আমি ওর কাছ থেকেই পাই। ৫০ হাজার পর্যন্ত সালামি নেওয়া হয়েছে। বিয়ের আগে ঈদ ছিল উপভোগের, এখন হয়ে গেছে স্পেশাল, জামাইয়ের কাছ থেকে নিতে নিতে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভক্তদের ব্লক করার অভিজ্ঞতা

তাসকিনের প্রতি নারী ভক্তদের ভালো লাগার ব্যাপারটি নাইমা ভালোভাবেই জানেন। তিনি বলেন, "একটা সময় অনেক নারী ভক্তকে ফেসবুক থেকে ব্লক করতে হয়েছে। ২০ জনের বেশি নারীভক্তকে ব্লক করা হয়েছে একদিন।"

তাসকিন তার জীবনসঙ্গী সম্পর্কে বলেন, "শুকরিয়া আমার যে সৎ একজন জীবনসঙ্গী পেয়েছি। ২০১৪ সালে অভিষেক হওয়ার পর থেকে ভালো সময় যাচ্ছিল ২০১৫ সালে বিশ্বকাপে ভালো করলাম। ২ বছরের মধ্যে ১৫-১৬টা এন্ডোরসমেন্ট পেয়ে গেলাম। আমার মনে হচ্ছিল 'ওয়াট এ লাইফ!'"

নাইমা তাসকিনের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগের একটি স্মৃতি শেয়ার করেন, "অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে যখন স্যুট দেয়, তখন সে বাসার নিচে গিয়েছিল মিট করতে, দেখা করতে।"

এই দম্পতির গল্প শুধু প্রেমের নয়, বরং পারিবারিক দায়িত্ব ও পেশাগত ব্যস্ততার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষারও একটি উদাহরণ। তাদের কথোপকথনে উঠে এসেছে ঈদের আনন্দ, পরিবারের প্রতি ভালোবাসা এবং একে অপরের প্রতি সমর্থনের মধুর অনুভূতি।