সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম ববির ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ইংরেজি সংবাদপত্রের পথিকৃৎ
আনোয়ারুল ইসলাম ববির ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী, ইংরেজি সংবাদপত্রের পথিকৃৎ

বাংলাদেশের ইংরেজি সাংবাদিকতার পথিকৃৎ আনোয়ারুল ইসলাম ববির ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ রবিবার বাংলাদেশের ইংরেজি ভাষার সাংবাদিকতার অগ্রদূত আনোয়ারুল ইসলাম ববির ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি লিউকেমিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পথে দুবাইয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার জীবন ও কর্ম দেশের মিডিয়া জগতে এক অনন্য দাগ রেখে গেছে।

সাংবাদিকতা জীবনের উজ্জ্বল অধ্যায়

আনোয়ারুল ইসলাম ববির সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে দ্য পাকিস্তান অবজার্ভার পত্রিকার মাধ্যমে। তখন তিনি অল্প বয়সেই অল পাকিস্তান নিউজপেপার সোসাইটির (এপিএনএস) সর্বকনিষ্ঠ সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তার প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তিনি দেশের মিডিয়া পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি শেখ ফজলুল হক মনি প্রতিষ্ঠিত দ্য বাংলাদেশ টাইমস এবং সাপ্তাহিক সিনেমা পত্রিকা গঠনে সহায়তা করেন, যা বাংলাদেশের সংবাদপত্র জগতে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান

আনোয়ারুল ইসলাম ববি পরবর্তীতে চিকিৎসা বিষয়ক সাপ্তাহিক পালস প্রতিষ্ঠা করেন, যা স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি হলো দ্য ডেইলি লাইফ পত্রিকা প্রতিষ্ঠা, যা চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত প্রথম আঞ্চলিক ইংরেজি দৈনিক হিসেবে স্বীকৃত।

ঢাকায় তিনি দ্য মর্নিং সান পত্রিকারও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, যদিও পরবর্তীতে এটি প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তার এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের ইংরেজি সংবাদপত্রের ভিত্তি মজবুত করতে সহায়ক হয়।

পরিবারের স্মৃতিচারণ ও শ্রদ্ধা

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার সহধর্মিণী লিনা ইসলাম এক বার্তায় তার আজীবন সাংবাদিকতা নিয়ে নিষ্ঠার কথা স্মরণ করেন। তিনি পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

আনোয়ারুল ইসলাম ববি একজন নিবেদিত সাংবাদিক ও মিডিয়া উদ্যোক্তা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন, যার কাজ বাংলাদেশের ইংরেজি সংবাদপত্রে এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। তার অবদান নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।