অপু বিশ্বাসের রাজনৈতিক ছবি ও শুভেচ্ছা নিয়ে সমালোচনার ঝড়
দলবদল একটি সামাজিক রীতি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু যখন এটি ঘন ঘন ঘটে, তখন তা চোখে লাগতে বাধ্য। বিশেষ করে, সিনেমা জগতের ঝাড়বাতির নিচে এমন ঘটনা ঘটলে সমালোচনা থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। জুলাই আন্দোলনের পর থেকে অনেক তারকাই তোপের মুখে রয়েছেন, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও বেড়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগের আমলে অনেক তারকাই দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, ভোট চেয়েছেন এবং নমিনেশন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে এখনও একই কাজে ব্যস্ত রয়েছেন, এবং নায়িকা অপু বিশ্বাসকে তাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রুমিন ফারহানার বিজয়ে অপু বিশ্বাসের শুভেচ্ছা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তথা বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা। এই নির্বাচনী সাফল্যের পর তিনি শুভেচ্ছায় ভাসছেন, যেখানে দলীয় কর্মী থেকে শুরু করে নানা অঙ্গনের মানুষ তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি সংস্কৃতি জগত থেকেও শুভেচ্ছা বার্তা আসছে।
জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস নিজের ফেসবুক স্টোরিতে রুমিন ফারহানার সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এই শুভেচ্ছা বার্তা সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভক্তদের নজর কেড়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে সমালোচনাও তৈরি করেছে। অনেকে মনে করছেন, রুমিন ফারহানার সঙ্গে এই ছবিটি অপু বিশ্বাস রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। আবার অনেকের মতে, তারকাদের এমন রাজনৈতিক ছবি ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশের উদ্দেশ্য বরাবরই নেতিবাচক হতে পারে।
নির্বাচনের আগে অপু বিশ্বাসের প্রত্যাশা
এদিকে, নির্বাচনের আগের দিন অপু বিশ্বাস নতুন সরকারের প্রতি তার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেছিলেন, 'যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তাদের সাধুবাদ জানাই। আমার পক্ষ থেকে অগ্রিম শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা হিসেবে চাইব, সবাই যেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।' নতুন সরকারের কাছে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি যোগ করেন, 'নারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি যেন সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি দেশের বিনোদন অঙ্গন, বিশেষ করে চলচ্চিত্রশিল্পকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।'
অপু বিশ্বাস আরও বলেন, সিনেমার মানুষ হিসেবে শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন তার অন্যতম প্রত্যাশা। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি শক্তিশালী চলচ্চিত্রশিল্প দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, একাদশ ও দ্বাদশ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হওয়ার জন্য তিনি প্রচণ্ড চেষ্টা চালিয়েছেন এবং মনোনয়নপত্রও তুলেছিলেন, যদিও শেষ রায়ে দুই সেশনেই দলীয় সমর্থন তার পক্ষে মেলেনি।
এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, তারকাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও প্রকাশ্য সমর্থন কীভাবে সমাজে বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিতে পারে। অপু বিশ্বাসের শুভেচ্ছা বার্তা সহজ অভিনন্দন নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা নিয়ে বিতর্ক চলমান রয়েছে।
