১৯৫৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে ১৭ বছর বয়সী পেলে দুই গোল করে ব্রাজিলকে ৫-২ ব্যবধানে জিতিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেন। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি আট বছর আগে বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করেন।
শৈশবের প্রতিশ্রুতি
১৯৫০ সালে ৯ বছর বয়সী পেলে লুকিয়ে লুকিয়ে রেডিওতে বিশ্বকাপ ফাইনালের ধারাভাষ্য শুনছিলেন। ব্রাজিল স্বাগতিক দেশ হিসেবে ফাইনালে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হতো। কিন্তু শেষ মুহূর্তে উরুগুয়ের কাছে হেরে যায়। পেলের বাবা সহ কোটি কোটি ব্রাজিলিয়ান কাঁদছিলেন। পেলে তখন বাবাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘কেঁদো না বাবা, আমি তোমার জন্য বিশ্বকাপ জয় করব!’
গরিব শৈশব ও ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা
পেলের বাবা ছিলেন পেশাদার ফুটবলার, কিন্তু ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যায়। তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে সংসার চালাতেন। পেলের মা চেয়েছিলেন ছেলে ফুটবলের ধারেকাছেও না যাক। কিন্তু পেলের রক্তে ছিল ফুটবল। বল কেনার টাকা না থাকায় কাপড় মুড়িয়ে বস্তির ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলতেন। গাছের আম দিয়ে কিক প্র্যাকটিস করতেন।
ব্রাজিল দলে ডাক
পাড়ার ফুটবল থেকে পেশাদার লিগ হয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই পেলে ব্রাজিল দলে ডাক পান। ১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে খেলতে যান। এর আগে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিল হাঙ্গেরির কাছে ‘দ্য ব্যাটল অব বার্ন’ ম্যাচে ৪-২ ব্যবধানে হেরে বাদ পড়ে।
জিঙ্গা ফুটবলের পুনরুজ্জীবন
মারাকানা ট্র্যাজেডির পর ব্রাজিলের ফুটবল নিয়ে সমালোচনা বাড়ে। অনেকে বলতেন, জিঙ্গা ফুটবল দিয়ে বিশ্বকাপ জয় সম্ভব নয়। কোচ পেলেকে জিঙ্গা ছাড়তে বললেও পেলের মন কিছুতেই রাজি ছিল না। ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে প্রথম ৪ মিনিটেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। এরপরই শুরু হয় জিঙ্গা স্টাইল ফুটবল।
পেলের অমর গোল
৯ম মিনিটে ভাভা গোল করে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান। ৩২তম মিনিটে ভাভা আরেকটি গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন। ৫৫তম মিনিটে পেলে বুক দিয়ে বল রিসিভ করে ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে ফ্লিক করে ভলি করে জালে জড়ান। এই গোলটি তখন পর্যন্ত সবার চোখে দেখা সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন গোল হিসেবে বিবেচিত হয়। সুইডেনের ডিফেন্ডার সিগভার্ড পারলিং পরে বলেছিলেন, ‘পেলে পঞ্চম গোলটি করার পর আর তাকে মার্ক করতে ইচ্ছা করেনি। শুধু দাঁড়িয়ে হাততালি দিতে চেয়েছিলাম।’
বিশ্বকাপ জয়
মারিও জাগালো আরেকটি গোল করেন এবং শেষ বাঁশি বাজার আগে পেলে শেষ গোলটি করে ব্রাজিলকে ৫-২ ব্যবধানে জিতিয়ে প্রথম বিশ্বকাপ এনে দেন। শেষ বাঁশি বাজার পর পেলে ভূমিতে লুটিয়ে পড়েন এবং শিশুর মতো কাঁদছিলেন। সতীর্থরা তাঁকে কাঁধে তুলে নেয়। ব্রাজিল ক্যাপ্টেন বেলিনি বিশ্বকাপ ট্রফি প্রথমবারের মতো মাথার ওপর ধরেন।
পেলের উত্তরাধিকার
ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় পেলের ক্যারিয়ার সেদিন আড়মোড়া ভাঙছিল। তাঁর হাত ধরেই ব্রাজিল ফুটবলের রাজত্ব শুরু হয়। ১৯৫৮ সালের ২৯ জুন আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী ব্রাজিলের অগণিত সমর্থকের জন্ম হয়।



