দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। আগামী ৮ আগস্ট ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সভাপতি পদপ্রার্থী খোরশেদ আলম খসরু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সামসুল আলমের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় ভোট ঘিরে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীর তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা আপিল বোর্ডে আবেদন করেছেন। এখন আপিলের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশনার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।
সাত বছর পর নির্বাচন, পথে বাধা
প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর প্রায় সাত বছর ধরে নিয়মিত নির্বাচন হয়নি। ভোটার তালিকা, গঠনতন্ত্র সংশোধন ও আইনি জটিলতার কারণে বারবার পিছিয়েছে নির্বাচন। ২০২২ সালে নির্ধারিত নির্বাচনও হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত হয়েছিল।
দীর্ঘদিন নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় চলচ্চিত্র শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ে সমিতির কার্যকর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিনেমা হল সংকট, প্রযোজকদের বিনিয়োগ সুরক্ষা, সরকারি নীতিমালা, চলচ্চিত্রের পরিবেশনা ব্যবস্থা ও নতুন বাজার তৈরির মতো বিষয়ে একটি শক্তিশালী নির্বাচিত কমিটির প্রয়োজন ছিল।
নির্বাচন না হওয়ার প্রভাব
নির্বাচন না হওয়ায় নতুন প্রযোজকদের অন্তর্ভুক্তি, সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় এবং পরিবর্তিত চলচ্চিত্র বাস্তবতায় সংগঠনের অবস্থান নির্ধারণেও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। দীর্ঘদিন নেতৃত্বের পরিবর্তন না হওয়ায় সংগঠনের কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা এসেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এবার সংশোধিত নিয়ম ও নতুন ভোটার তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, একজন প্রযোজক যত চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন না কেন, তিনি একজন ভোটার হিসেবেই গণ্য হবেন। শুরুতে ১১ জুলাই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা পিছিয়ে ৮ আগস্ট করা হয়।
মনোনয়ন বাতিল ও আইনি লড়াই
মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু ও সামসুল আলম। তাদের দাবি, পরবর্তী সময়ে কার্যকর হওয়া একটি বিধান আগের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা আইনসঙ্গত নয়।
এ বিষয়ে চিত্রনায়ক ও প্রযোজক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল বলেন, “সবকিছুরই একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তারা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান চাইবেন। নির্বাচনও যথাসময়েই হবে বলে আমরা আশা করছি।”
প্রযোজক আরশাদ আদনান জানান, ২০২৩ সালের প্রজ্ঞাপনে টানা দুই মেয়াদের বিধান কার্যকর না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ফলে ২০১৯-২০২১ মেয়াদকে নির্বাচন-যোগ্যতার ক্ষেত্রে কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সেটিই এখন মূল বিষয়। তার মতে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উচ্চ আদালতের ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করতে পারে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনিশ্চয়তা
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রযোজক সমিতির নির্বাচন ফের আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। এখন সবার নজর আপিল বোর্ড ও আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে।



