কমেডি নির্মাণে ভয় পাচ্ছেন প্রিয়দর্শন, বিরাট কোহলির নির্ভারতার সহায়ক তাঁর 'ফ্লপ' সিনেমা
প্রিয়দর্শনের কমেডি ভয়, কোহলির নির্ভারতার সহায়ক 'ফ্লপ' সিনেমা

কমেডি নির্মাণে ভয় পাচ্ছেন প্রিয়দর্শন, বিরাট কোহলির নির্ভারতার সহায়ক তাঁর 'ফ্লপ' সিনেমা

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের কমেডি ঘরানার অন্যতম সফল নির্মাতা প্রিয়দর্শন সম্প্রতি একটি চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ চার দশকের ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় কমেডি সিনেমা উপহার দেওয়া এই পরিচালক এখন আর কমেডি নির্মাণে তেমন আগ্রহী নন। বরং তিনি এই ধারার কাজ করতে একধরনের ভয়ও অনুভব করেন। তবে মজার বিষয় হলো, ভারতের তারকা ক্রিকেটার বিরাট কোহলি ম্যাচের আগে মানসিক চাপ কাটাতে প্রিয়দর্শনের একটি 'ফ্লপ' কমেডি সিনেমা দেখেন বলে জানা গেছে।

'কমেডির রাজা'র অনাগ্রহের কারণ

প্রিয়দর্শন মালয়ালম ও হিন্দি দুই ভাষাতেই দ্রুতগতির গল্প, ভুল–বোঝাবুঝির মজার পরিস্থিতি এবং চরিত্রদের অদ্ভুত আচরণের মাধ্যমে অসংখ্য সফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। কিন্তু সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো নতুন কমেডির ধারণা পাচ্ছেন না। তাঁর মতে, কমেডির জন্য প্রয়োজন নতুনত্ব ও চমক, যা এখন কঠিন হয়ে গেছে। তিনি জানান, সম্ভবত আর একটি কমেডি সিনেমা বানাবেন, এরপর এই ধারার কাজ থেকে সরে দাঁড়াতে চান।

কোহলির পছন্দের 'ঢোল' সিনেমা

প্রিয়দর্শনের কথায় আরেকটি মজার তথ্য সামনে এসেছে। তিনি জানান, বিরাট কোহলি ম্যাচের আগে মানসিক চাপ কমাতে তাঁর নির্মিত কমেডি সিনেমা 'ঢোল' দেখেন। বিষয়টি কিছুটা বিস্ময়কর, কারণ মুক্তির সময় সিনেমাটি খুব একটা ব্যবসাসফল হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশন ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে এটি নতুন করে জনপ্রিয়তা পায়। এখন অনেক দর্শকের কাছেই এটি একটি 'কাল্ট কমেডি' হিসেবে পরিচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যর্থতার ধাক্কা ও স্ট্রিমিং যুগে পুনর্জন্ম

প্রিয়দর্শন বলেন, তাঁর কিছু কমেডি সিনেমা মুক্তির সময় প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। বিশেষ করে 'ঢোল' ও 'খাট্টা মিঠা' বক্স অফিসে ভালো না করায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। একজন নির্মাতার জন্য নিজের কাজ ব্যর্থ হতে দেখা সহজ নয়। তখন মনে হয়েছিল, দর্শক হয়তো আর তাঁর কমেডি ধরনকে গ্রহণ করছেন না। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। বর্তমানে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে তাঁর পুরোনো সিনেমাগুলো নতুন দর্শক পাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন তাঁর পুরোনো কমেডি নতুন করে আবিষ্কার করছেন। প্রিয়দর্শন বলেন, তখন যে সিনেমাগুলো ব্যর্থ হয়েছিল, সেগুলোই এখন অনেক দর্শকের প্রিয় হয়ে উঠেছে। এর ফলে একসময়কার হতাশা এখন কিছুটা প্রশান্তিতে বদলে গেছে।

সিরিয়াস সিনেমার দিকে ঝোঁক

প্রিয়দর্শন জানান, এখন তিনি বরং গম্ভীর বা সিরিয়াস ধরনের সিনেমা নির্মাণে বেশি আগ্রহী। তাঁর মতে, একজন নির্মাতার জন্য সময়ের সঙ্গে নিজের ধরন বদলানোও জরুরি। যদিও দর্শকের কাছে তিনি মূলত কমেডি নির্মাতা হিসেবেই পরিচিত, তবু তিনি মনে করেন, নতুন ধরনের গল্প বলার মধ্যেই নির্মাতার সৃজনশীলতা বেঁচে থাকে।

দর্শকের ভালোবাসাই শেষ কথা

প্রিয়দর্শনের বক্তব্যে যেমন হতাশার সুর আছে, তেমনি আছে দর্শকের প্রতি কৃতজ্ঞতাও। কারণ, মুক্তির সময় ব্যর্থ হওয়া অনেক সিনেমাই পরে দর্শকের ভালোবাসায় নতুন জীবন পেয়েছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার—ভারতের অন্যতম সফল ক্রিকেটার যদি সত্যিই ম্যাচের আগে তাঁর 'ফ্লপ' কমেডি দেখে মন হালকা করেন, তাহলে সেটাই হয়তো একজন নির্মাতার জন্য সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।