প্রথম আলো ভবনে হামলার ধ্বংসস্তূপ নিয়ে চলছে ‘আলো’ শীর্ষক শিল্প প্রদর্শনী
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর আক্রান্ত ও অগ্নিদগ্ধ ভবনে ‘আলো’ শীর্ষক একটি অনন্য শিল্প প্রদর্শনী চলছে, যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিল্পী মাহবুবুর রহমান সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপকে শিল্পভাষায় রূপ দিয়েছেন, যাতে মানুষ ঘটনার ভয়াবহতা সরাসরি অনুভব করতে পারে।
প্রদর্শনীর বিস্তারিত সময়সূচি ও দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া
১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। আগামীকাল সোমবার (২ মার্চ) পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। দর্শনার্থীরা পুড়ে যাওয়া কম্পিউটার, যন্ত্রাংশ, টেবিল, চেয়ার, বই এবং নথিপত্র ঘুরে দেখছেন, যা হামলার মাত্রা স্পষ্ট করে তুলছে।
একজন দর্শনার্থী আনসার আলী বলেন, ‘প্রদর্শনী দেখে প্রথম আলোয় হামলার ভয়াবহতা বুঝতে পারলাম। একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ অন্য একজন দর্শনার্থী তো ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন, যদিও তিনি নিজের পরিচয় গোপন রাখেন।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
প্রদর্শনীর ১২তম দিনে দ্য ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ উপস্থিত হন, যিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি প্রদর্শনীকে ‘খুবই সময়োপযোগী কাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে সেদিন কী ঘটেছিল, গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের আক্রমণের ভয়াবহতা মানুষ বুঝতে পারবে। প্রথম আলো এ কাজটা করে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।’
এছাড়া, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম প্রোগ্রামের একদল শিক্ষার্থীও প্রদর্শনী দেখতে আসেন। সহকারী অধ্যাপক সৌমিক পাল এ উদ্যোগকে ‘প্রশংসনীয়’ বলে উল্লেখ করেন, কারণ এটি ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে একটি সঠিক পদক্ষেপ। শিক্ষার্থী ঋতু বলেন, ‘প্রথম আলোর কাজ করার সাহসই আমাদের ভবিষ্যতে এই পেশায় আসতে অনুপ্রাণিত করছে।’
হামলার পটভূমি ও প্রথম আলোর পুনরুদ্ধার
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীদের হামলায় প্রথম আলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়, অনলাইন সেবা বন্ধ হয়ে যায় এবং ২৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৯ ডিসেম্বর ছাপা পত্রিকা প্রকাশিত হতে পারেনি। তবে, মাত্র ১৭ ঘণ্টার মধ্যে অনলাইন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয় এবং ২০ ডিসেম্বর সকালে পাঠকরা ছাপা পত্রিকা হাতে পান, যা গণমাধ্যমের দৃঢ়তার প্রমাণ দেয়।
এই প্রদর্শনী শুধু ধ্বংসের চিত্রই নয়, বরং পুনরুদ্ধার ও প্রতিরোধের বার্তাও বহন করে, যা দর্শনার্থীদের মাঝে আশা জাগিয়ে তুলছে।
