জীবনে কিছুই সহজে পাইনি, লড়তে হয়েছে: সানি লিওনের 'কেনেডি' অভিজ্ঞতা
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানি লিওন সম্প্রতি অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত 'কেনেডি' সিনেমায় অভিনয় করেছেন, যা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। এই সিনেমায় চার্লি নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। সিনেমাটির মুক্তি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ক্যারিয়ার, সুযোগ পাওয়া এবং চলচ্চিত্র জগতের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
অনুরাগ কাশ্যপের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা
সানি লিওন অনুরাগ কাশ্যপকে একজন বড়মাপের নির্মাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'অনুরাগ কাশ্যপ সেটে পাগলাটে বা কঠোর পরিচালক নন, বরং তার প্রত্যাশা থাকে যে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রস্তুত হয়ে আসবেন। তিনি সময় দেন, যা সবাই দেন না।' 'কেনেডি' সিনেমার প্রস্তাবটি তার কাছে অবাক করার মতো ছিল, কারণ মূলধারার বিনোদনজগতের পরিচিত মুখ হওয়া সত্ত্বেও অনুরাগ কাশ্যপের মতো নির্মাতার কাছ থেকে এমন প্রস্তাব পাওয়া স্বপ্নের মতো মনে হয়েছে।
চার্লি চরিত্র ও রহস্যময় হাসি
'কেনেডি' সিনেমায় সানি লিওনের চরিত্র চার্লির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে তার রহস্যময় হাসি। এই হাসিকে নিখুঁত করতে তিনি দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছেন। 'আমি সপ্তাহের পর সপ্তাহ সেই অদ্ভুত হাসিটা অনুশীলন করেছি। লিফটে, সেটে ও বিমানবন্দরে—যেখানেই সুযোগ পেয়েছি, সেখানেই হাসতাম। আশপাশের মানুষ ভাবত আমি পাগল হয়ে গেছি!' বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি আরও যোগ করেন যে তিনি সহজে বিব্রত হন না, তাই এই হাসি নিয়েও কখনো অস্বস্তি হয়নি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মুক্তির বিলম্ব
'কেনেডি' সিনেমাটি ২০২৩ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবের মিডনাইট স্ক্রিনিং বিভাগে প্রিমিয়ার হয়েছিল। পরে এটি জিও মামি মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসব, সিডনি চলচ্চিত্র উৎসব, মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব, লন্ডন-ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল এবং বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেও ভারতে মুক্তির বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে সানি লিওন বলেন, 'প্রতিটি সিনেমারই নিজস্ব সময় থাকে, সময় হলে সে তার জায়গা খুঁজে পায়। আমরা এ সিনেমাটিকে নিয়ে বিশ্বভ্রমণ করেছি এবং মুম্বাইয়েও দর্শক দারুণভাবে গ্রহণ করেছেন।'
সহকর্মীদের প্রশংসা ও ইতিবাচক পর্যালোচনা
চার্লি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সানি লিওন সহকর্মীদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত প্রশংসা পেয়েছেন। নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এসে বলেছেন যে তারা তার কাজ পছন্দ করেছেন। ওটিটিতে মুক্তির পর ইতিবাচক পর্যালোচনাও তাকে বিস্মিত করেছে। তিনি বলেন, 'অনেক দিন পর মনে পড়ল—রিভিউ বলে একটা ব্যাপার আছে। এত সুন্দর প্রতিক্রিয়া পাব, ভাবিনি।'
দীর্ঘ যাত্রার প্রতিফলন
নিজের দীর্ঘ যাত্রার দিকে ফিরে তাকিয়ে তরুণ বয়সের নিজেকে কী বলতেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সানি লিওন বলেন, 'সিটবেল্ট বাঁধো। পথ সহজ হবে না। জীবনে কিছুই সহজে পাইনি। লড়তে হয়েছে, আঁকড়ে ধরতে হয়েছে। একটা দরজা বন্ধ হলে আরেকটা খোলার চেষ্টা করেছি। আর সেই চেষ্টাই আমাকে এখানে এনেছে।' তার এই বক্তব্য তার সংগ্রামী জীবনেরই প্রতিফলন।
সানি লিওনের 'কেনেডি' অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র একটি সিনেমার গল্প নয়, বরং এটি একজন শিল্পীর অধ্যবসায় ও দৃঢ়তার গল্প। তার কথায়, 'শিল্পে নানা রাজনীতি থাকে, অনেক সময় শেষ মুহূর্তে বদল ঘটে।' কিন্তু তিনি প্রথম শট শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন এবং চার্লি চরিত্রটিকে সফলভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। এই সিনেমাটি এখন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য উপলব্ধ, যেখানে সানি লিওনের অভিনয় দক্ষতা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
