চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলেও জাতীয় পুরস্কার বন্ধ নয়: সার্টিফিকেশন বোর্ড
গত বুধবার রাজধানীর তথ্য ভবনে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের মধ্যে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার পর মানসের তরফ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, যাতে বলা হয়েছিল যে চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে না। এই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে।
বিভ্রান্তি দূর করতে বোর্ডের বিবৃতি
বিষয়টি নজরে আসার পর শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে। বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ‘ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে না’—এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আলোচনা সভায় গৃহীত হয়নি। উপরন্তু, বোর্ডের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ারও তাদের নেই।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড নির্দিষ্ট আইন ও বিধি দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত হয়। এ সংস্থা তার গাইডলাইনের বাইরে যাওয়ার সুযোগ রাখে না।’ মূলত, আলোচনা সভায় মানসের একজন অংশীজন ব্যক্তিগত প্রস্তাব হিসেবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছিলেন, কিন্তু তা কোনো সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহীত হয়নি।
মানসের বিজ্ঞপ্তিতে ভুল উপস্থাপন
সার্টিফিকেশন বোর্ড আরও জানিয়েছে যে, মানসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম আব্দুর রহমানের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই ভুল উপস্থাপন থেকেই বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয়েছে বলে বোর্ড দাবি করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মানস কর্তৃক জারিকৃত প্রেস রিলিজের মিসলিডিং শিরোনাম ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন থেকেই বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয়েছে। এ বিষয়ে সার্টিফিকেশন বোর্ড তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রে বোর্ড অধিক সতর্ক থাকবে।’
পরবর্তীতে, মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থাও (মানস) আরেকটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি জারি করে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, যা বিভ্রান্তি দূর করতে সহায়তা করেছে।
সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কাজ করে, যা চলচ্চিত্রের সেন্সরশিপ এবং সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। বোর্ডের প্রধান দায়িত্ব হলো চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু আইন ও বিধির মধ্যে রেখে সার্টিফিকেশন প্রদান করা। তবে, জাতীয় পুরস্কার প্রদানের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বোর্ডের কোনো এখতিয়ার নেই, যা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।
এই ঘটনা চলচ্চিত্র শিল্প এবং মাদক বিরোধী প্রচারণার মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে উভয় পক্ষের মধ্যে সুস্পষ্ট যোগাযোগ এবং সঠিক তথ্য প্রচার অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।
