প্রথম আলো ভবনে 'আলো' প্রদর্শনীতে সমবেত নিন্দা ও বিচারের দাবি
প্রথম আলো ভবনে 'আলো' প্রদর্শনীতে নিন্দা ও বিচারের দাবি

প্রথম আলো ভবনে 'আলো' প্রদর্শনীতে সমবেত নিন্দা ও বিচারের দাবি

প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে চলমান শিল্পকর্ম প্রদর্শনী 'আলো' ঘুরে দেখতে এসেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলো ভবনে এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর নবম দিনে প্রচুর দর্শকের সমাগম ঘটে। তাঁরা শিল্পকর্মটির প্রশংসা করার পাশাপাশি ভয়াবহ হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষী ব্যক্তিদের আইনানুগ শাস্তির দাবি তুলে ধরেন।

সাবেক উপদেষ্টা ও আইনজীবীদের বক্তব্য

প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে এসে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, 'গত ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর ওপর সংঘটিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঠেকাতে না পারাটা তৎকালীন সরকারের একটি বড় ব্যর্থতা ছিল।' তিনি উল্লেখ করেন যে এই ঘটনা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর একটি গুরুতর আঘাত, তবে প্রথম আলো তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হবে না বলে তাঁর বিশ্বাস।

আইনজীবী সারা হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'এমন হামলা দেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে আর কখনো ঘটেনি। ঘটনার দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।' তিনি জোর দিয়ে বলেন যে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া

প্রদর্শনী দেখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউল্যাবের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা বলেন, 'সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে এ পরিস্থিতি আমাদের জন্য আতঙ্কের। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা থাকবে, যেন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়।'

ইউসিএসআই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আহমেদ বিন কাদের, যিনি শিক্ষার্থী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, বলেন, 'শিক্ষার্থীদের দেখাতে চেয়েছি যে বাংলাদেশে প্রথম সারির গণমাধ্যমটি কতটা জঘন্য আক্রমণের শিকার হয়েছে। দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা করুণ অবস্থায় রয়েছে।'

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি

প্রদর্শনী দেখতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও এসেছিলেন। তাঁরা প্রথম আলোর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশনস আবদুল কাইয়ুম বললেন, 'এ ঘটনা কতটা বীভৎস ছিল, সেটা সরাসরি না দেখলে বোঝা যেত না।'

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • মিডিয়াকমের সিইও অজয় কুমার কুন্ডু
  • এমবিএর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর রাহাত সোহায়েল অনন্যা
  • ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশনস খায়রুল বাশার
  • বিকাশের জেনারেল ম্যানেজার (পিআর অ্যান্ড মিডিয়া) রোকসানা মিলি

রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য

বিকেলে প্রদর্শনী দেখতে এসে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রথম আলো ভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, 'ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।' জামায়াতের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও মজলিশে শুরার সদস্য আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

প্রদর্শনীর সময়সূচি ও বিবরণ

শিল্পী মাহবুবুর রহমানের শিল্প প্রদর্শনী 'আলো' গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে এবং আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীটি বেলা ১১টা থেকে ১টা এবং বেলা ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই প্রদর্শনীটি প্রথম আলো ভবনে সংঘটিত হামলার স্মৃতিকে ধরে রেখে শিল্পের মাধ্যমে প্রতিবাদের একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বোপরি, এই ঘটনায় সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে মানুষ একত্রিত হয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও ন্যায়বিচারের জন্য তাদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করেছেন, যা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।