আসিফ ইসলামের দ্বিতীয় সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার মস্কোতে
আসিফ ইসলামের দ্বিতীয় সিনেমার প্রিমিয়ার মস্কোতে

পরিচালক আসিফ ইসলামের দ্বিতীয় সিনেমা কিং ইন দ্য ল্যান্ড অব দ্য প্রিন্সেস-এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম সিনেমা নির্বাণ-এর পর এবার দ্বিতীয় সিনেমাটি মস্কোতে প্রদর্শিত হলো। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন আসিফ ইসলাম।

সিনেমা নির্বাচন ও প্রিমিয়ার

মস্কোতে সিনেমা জমা দেওয়ার পর নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানান আসিফ ইসলাম। উৎসব শুরুর অল্প কিছুদিন আগে জানতে পারেন, তাদের সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে হয়।

প্রযোজক টিম

প্রধান নির্বাহী প্রযোজক জান্নাতুল বাকের খানের সঙ্গে যাত্রা শুরু হলেও পরে যুক্ত হন প্রযোজক সাকিব ইফতেখার এবং সহকারী প্রযোজক জাকির হোসেন রাজু। সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আসিফ ইসলাম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেরি হওয়ার কারণ

আগে মস্কোতে সিনেমা জমা দিতে সেন্সরের প্রয়োজন হতো না। এবার থেকে রাশিয়ার সরকার আইন করেছে, সিনেমা সেন্সর করেই প্রদর্শন করতে হবে। এ কারণে কালক্ষেপণ হয়।

শারীরিক অসুস্থতা

জার্নি করে শরীর ভালো না থাকায় প্রচণ্ড জ্বর ছিল। ১৮ ও ২২ এপ্রিল সিনেমার প্রিমিয়ার ছিল। অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে প্রযোজককে বলেন, ২৩ তারিখে দেশে ফিরে যাবেন। পরে সুস্থ হয়ে উৎসব শেষেই ফিরেছেন।

রুশ দর্শকের প্রতিক্রিয়া

এক দেশের সংস্কৃতি অন্য দেশের দর্শকদের বোঝানো কঠিন। এ কারণে চিন্তিত ছিলেন, রুশ দর্শক যাত্রার গল্পকে কীভাবে নেন। পরে দেখেন, তাঁরা সিনেমাটি উপভোগ করছেন। এমনকি যাত্রার নাচের দৃশ্যে শিস দিচ্ছিলেন। অন্য ভাষায় সাবটাইটেল দিয়ে দেখেও দর্শক এতটা উপভোগ করবেন, এটা অবাক করার মতো।

দর্শকদের সঙ্গে কথা

অনেক দর্শকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা আগ্রহসহকারে বাংলাদেশের যাত্রা সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। একজন রুশ দর্শক বাংলা ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করছেন এবং যাত্রা সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন। তিনি সিনেমার খুঁটিনাটি নিয়ে সমালোচনা করেন, যা বেশ দারুণ লেগেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশি দর্শকের মন্তব্য

দর্শকদের একটাই কথা, বাংলা সিনেমা দেখতে চান; কিন্তু রাশিয়ায় সরাসরি বাংলা সিনেমা দেখার সুযোগ কম। প্রথম সিনেমা নির্বাণ-এর সময় এত দেশি দর্শক পাননি। এবার অনেক পেয়েছেন। অনেকে দ্বিতীয়বারও দল ধরে সিনেমা দেখেছেন। তাঁদের মন্তব্য, যাত্রার গল্পটি ভালো লেগেছে।

আয়োজকদের ধারণা

বাংলাদেশের সিনেমা যে দিন দিন এগিয়ে যাচ্ছে, সেটা আয়োজকরা জানেন। তাঁরা কথার শুরুতেই বলছিলেন, বাংলাদেশের সিনেমার নিউ ওয়েব শুরু হয়েছে। এই নতুন জোয়ার নিয়ে তাঁরা আশাবাদী। তাঁদের প্রত্যাশা, দেশ থেকে আরও বেশি সিনেমা মস্কোয় যাক। কারণ, গল্পগুলো একদমই আলাদা, পটভূমি ভিন্ন।

প্রথম ও দ্বিতীয় সিনেমার পার্থক্য

প্রথম সিনেমা ছিল সাদা-কালো ও নির্বাক; এবার সবাক ও রঙিন। গল্পের প্রয়োজনে এটা হয়েছে। প্রথম সিনেমার গল্পে দাবি করেছিল নির্বাক ও সাদা-কালো। এবারের গল্প ও পটভূমি একদমই আলাদা। তিনি নিজে পরিচালক ও ক্যামেরাম্যান। যে কারণে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি একেকটা সিনেমা একেকভাবে ডিল করতে চান। সিনেমা-স্টাইল-জনরা—সবকিছু ঠিক করে দেয় গল্প।

পুরস্কার প্রসঙ্গ

প্রথমবার জুরি পুরস্কার পেয়েছিলেন। এবার জুরিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা হয়েছে। তাঁরা ভীষণ পছন্দ করেছেন। সিনেমার ডিটেইলস পর্যন্ত জানেন। অনেক প্রশংসা পেয়েছিলেন। ধরেই নিয়েছিলেন, নেটপ্যাক পুরস্কার পাবেন; কিন্তু পাননি। উৎসবে সিনেমার পুরস্কার নিয়ে আগে থেকে কোনো ধারণা করা কঠিন।

মুক্তি পরিকল্পনা

আপাতত নির্বাণ রিলিজ করতে চান না। সিনেমায় বাণিজ্যিক উপাদান নেই। এটি নিরীক্ষাধর্মী। এ ধরনের সিনেমার দর্শক কম। ইচ্ছা আছে দ্বিতীয় সিনেমা আগে রিলিজ করা। প্রিন্সেস সবার আগে যাত্রাশিল্পীদের দেখাতে চান, যাঁরা সিনেমায় অভিনয় করেছেন। শিগগিরই সিনেমাটির প্রিমিয়ার করবেন গোপালগঞ্জের গোবিন্দপুর গ্রামে।

বিশেষ অভিজ্ঞতা

বাঙালিরা খুবই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। রাশিয়ায় জ্বরের কথা শুনে রাশিয়ায় থাকা বাঙালি দর্শক গরুর মাংস আর করলা ভাজি নিয়ে এসেছিলেন। অনেকেই খবর নিতে এসেছিলেন; সঙ্গে এনেছিলেন নানা খাবার। এগুলো বেশ মুগ্ধ করেছে।