ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি খেলা নয়, পুরো বিশ্বের কাছে এটি একটি বিশাল আয়োজন। অনেকে এই আয়োজনকে 'দ্য গ্রেটেস্ট ইভেন্ট অব আর্থ' বলে থাকেন। এখানে মাঠের খেলাই শেষ কথা নয়; পুরো আয়োজনের মধ্যমণি থাকে খেলা, আর মাঠের বাইরে মানুষের মনে দোলা দেয় বিশ্বকাপের গান।
বিশ্বকাপের গানের ঐতিহ্য
পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করে বিশ্বকাপের গানের জন্য। ২০১০ বিশ্বকাপের 'ওয়াকা ওয়াকা' কিংবা ১৯৯৮ বিশ্বকাপের 'কাপ অব লাইফ' এখনো মিশে আছে ফুটবলের সঙ্গে। ফুটবলের গান বললে সবার আগে উঠে আসে এই দুই গানের নাম। শাকিরা আর রিকি মার্টিনের সুর মিশে আছে প্রত্যেক ফুটবলপ্রেমীর মনে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখেও তাই একই ধারা মেনে চলছে ফিফা। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের গান মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে তারা। বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—তিন দেশেই রয়েছে তিন রকম সংস্কৃতি। যে কারণে এবারের বিশ্বকাপে শুধু গান নয়, পুরো একটি অ্যালবাম রিলিজ করতে যাচ্ছে ফিফা। সেই অ্যালবামের গানগুলো মুক্তি পেতে শুরু করেছে একে একে। কেমন হলো সেই গানগুলো?
প্রথম গান: 'লাইটার'
গায়ক: জেলি রোল ও কারিন লিওন। মার্কিন র্যাপার জেলি রোল ও মেক্সিকান গায়ক কারিন লিওন মিলে গেয়েছেন বিশ্বকাপের প্রথম গান 'লাইটার'। ফিফার চ্যানেলে এই গানকে আখ্যা দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ অ্যালবামের প্রথম পর্ব। পপ এবং কান্ট্রি মিউজিকের মিশ্রণে এই গানে রয়েছে মেক্সিকান র্যাপ। তবে ফিফা যতই জাঁকজমক করে মুক্তি দিক না কেন, দর্শকদের মধ্যে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি এই গান। বরং ইউটিউবের কমেন্ট বক্সে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। পপ ও কান্ট্রি মিউজিকের মিশ্রণ কোনোভাবেই আপ্লুত করতে পারেনি শ্রোতাদের। কেউ কেউ তো বলছেন, 'এআইকে দিয়ে লেখালেও বোধ হয় এর চেয়ে ভালো গান পাওয়া সম্ভব ছিল।' ফিফার বিশ্বকাপ অ্যালবামের প্রথম গান নিয়ে হতাশই হয়েছেন শ্রোতারা।
দ্বিতীয় গান: 'পর অ্যায়া'
গায়ক: লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস ও বেলিন্ডা। বিশ্বকাপ অ্যালবামের দ্বিতীয় গান বেশ সাড়া ফেলেছে মেক্সিকানদের মধ্যে। মেক্সিকোর ঐতিহ্য আর ফুটবল সংস্কৃতি উঠে এসেছে এই গানের মধ্য দিয়ে। আইকনিক মেক্সিকান কুম্বিয়া ব্যান্ড লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস ও পপ তারকা বেলিন্ডার জুটিটা হয়েছেও দারুণ। ফুটবল যে শুধু একটি খেলা নয়, বরং জড়িয়ে আছে মেক্সিকানদের শিরায় শিরায়, নাচ আর ফুটবলের যে রসায়ন, তা উঠে এসেছে এই গানের কথায়।
তৃতীয় গান: 'ইকো' (আনঅফিসিয়াল)
গায়ক: ড্যাডি ইয়াঙ্কি ও শেনসিয়া। গানটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফা থেকে মুক্তি না পেলেও আনঅফিসিয়ালি মুক্তি দিয়েছেন র্যাপার ড্যাডি ইয়াঙ্কি। পুয়ের্তো রিকান র্যাপার ড্যাডি ইয়াঙ্কি ও জামাইকান গায়িকা শেনসিয়া মিলে গেয়েছেন গানটি। গানটিতে থাকছে ক্যারিবীয় ও জামাইকান মিউজিকের প্রভাব।
এ ছাড়া কোকা-কোলা প্রতিবারের মতো তাদের নিজস্ব একটি গান বের করেছে। ফিফার অ্যালবামে মোট কয়টি গান থাকবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কোন গানটি দর্শকদের মন জয় করে টিকে থাকতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।



