কানাডার সারে এলাকায় কপিল শর্মার মালিকানাধীন ‘ক্যাপস ক্যাফে’–কে ঘিরে আবারও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে ৩ মে ২০২৬ ভোরে, ক্যাফের পাশের একটি রেস্তোরাঁর কাছে।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে হঠাৎ অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি চালিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে। সৌভাগ্যবশত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
অপরাধচক্রের দায় স্বীকার
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলার পেছনে একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের নামও সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং-এর পক্ষ থেকে দায় স্বীকারের দাবি এবং হুমকিমূলক বার্তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে কপিল শর্মার ব্যবসায়িক উদ্যোগকে লক্ষ্য করে ভবিষ্যতে আরও আক্রমণের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত নিশ্চিত ঘোষণা দেয়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে একই ক্যাফেকে লক্ষ্য করে ২০২৫ সালের জুলাই এবং অক্টোবর মাসে একাধিকবার গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিক এই হামলার কারণে স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সব ঘটনার মধ্যে কোনো সংযোগ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক প্রমাণ এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে চলছে।
হামলার কারণ
প্রসঙ্গত, আক্রমনের দায় স্বীকার করা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এর দাবি, কপিল শর্মাকে টার্গেট করার প্রধান কারণ হল অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। জানা গিয়েছে, ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সালমান খানের আমন্ত্রণে বিষ্ণোই গ্যাং ক্ষুব্ধ হয়েছিল। এর আগে দলের এক সদস্য সতর্ক করেছিল যে, সালমান খানের সঙ্গে কাজ করলে যে কাউকেই তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এবং সালমান খানের মধ্যে শত্রুতার সূত্রপাত ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের মামলা থেকে। বিষ্ণোই সম্প্রদায় কৃষ্ণসার হরিণকে পবিত্র বলে মনে করে এবং এই কারণে গ্যাংটি বেশ কয়েক বছর ধরে সালমান খান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের হুমকি দিয়ে আসছে।



