আমির খানের অঘটন মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা, মনসুরের ওপর ভরসা
আমির খানের অঘটন মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা

শুক্রবার মুক্তি পেয়েছে জুনাইদ খান ও সাই পল্লবী অভিনীত হিন্দি সিনেমা ‘এক দিন’। সিনেমার দুই প্রযোজক আমির খান ও তাঁর চাচাতো ভাই মনসুর খান। সম্প্রতি সিনেমার প্রচারে এই দুই প্রযোজক সাক্ষাৎকার দিয়েছেন দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে। সমালোচক অনুপমা চোপড়াকে দেওয়া সেই সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আমির।

আমিরের বিশেষ নির্দেশনা

সাক্ষাৎকারে আমির খান জানিয়েছেন, তাঁর কোনো ছবি যখন শেষ পর্যায়ে থাকে, তখন তিনি পরিচালকদের বিশেষভাবে বলে রাখেন—যদি তাঁর সঙ্গে কোনো অঘটন ঘটে, তাহলে যেন মনসুর খানের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ এগোনো হয়। ‘যদি আমার প্লেন ক্রাশ হয়, বা আমি মারা যাই—আমি চাই না ছবিটা নষ্ট হয়ে যাক। তাই আমি পরিচালককে বলে দিই, আমার কিছু হলে মনসুরের কথা শুনতে,’—বলেছেন আমির।

ফ্লাইটে ওঠার আগেও বার্তা

শুধু কথায় নয়, কাজেও দেখান এই আস্থা। আমির জানান, কোনো ছবি পোস্ট-প্রোডাকশনে থাকা অবস্থায় তিনি যখনই বিমানে ওঠেন, তার আগে মনসুর খানকে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে তিনি ছবির নির্দিষ্ট কিছু বিষয়—যেমন সম্পাদনা, দৃশ্যের গঠন বা টোন—কীভাবে রাখতে চান, তা বিস্তারিত লিখে দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই অভ্যাসের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক বোঝাপড়া। আমিরের ভাষায়, ‘ওই একজন মানুষ, যাঁর ইনস্টিংক্টের ওপর আমি পুরোপুরি ভরসা করি।’

দীর্ঘ সৃজনশীল সম্পর্ক

আমির ও মনসুর খানের সম্পর্ক শুধু পারিবারিক নয়, পেশাগত দিক থেকেও গভীর। তাঁদের প্রথম যৌথ কাজ ‘কায়ামত সে কায়ামত তক’ থেকেই শুরু। এরপর একাধিক ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। এই দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতাই তৈরি করেছে সেই আস্থা, যা আজও অটুট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মনসুরের দ্বিধাও আছে

তবে মনসুর খান নিজে এই দায়িত্ব নিতে সব সময় স্বস্তি বোধ করেন না। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রজগৎ থেকে দূরে থাকায় তিনি মনে করেন, তাঁর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায় কিছুটা ভাটা পড়েছে। মনসুর খানের কথায়, ‘অনেক দিন দূরে থাকার কারণে আমার সেই সংবেদনশীলতা কিছুটা কমে গেছে। তাই এখন সিদ্ধান্ত নিতে একটু বেশি সতর্ক থাকি।’

‘এক দিন’-এ আবার একসঙ্গে

সম্প্রতি ‘এক দিন’ ছবির কাজে আবারও একসঙ্গে কাজ করেছেন দুজন। ছবিটির চিত্রনাট্য নিয়ে শুরুতে দুজনই কাজ করেন, পরে শুটিংয়ের দায়িত্ব নেন মনসুর। জাপানে শুটিংয়ের সময় একটি দৃশ্য নতুনভাবে করার প্রস্তাব দেন মনসুর ও পরিচালক সুনীল পান্ডে। প্রথমে আমির দ্বিমত পোষণ করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের ওপর ভরসা রাখেন—এবং পরে দেখেন, সেটিই তাঁর ভাবনার সঙ্গে মিলে গেছে।