সন্‌জীদা খাতুন স্মরণগ্রন্থ ‘কী রাগিণী বাজালে’র মোড়ক উন্মোচন
সন্‌জীদা খাতুন স্মরণগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

গান, স্মৃতিচারণা ও লেখা থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সন্‌জীদা খাতুন স্মরণগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। ‘কী রাগিণী বাজালে’ নামের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ধানমন্ডির ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে। সংগীতজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সংগঠক সন্‌জীদা খাতুনের অনেক ছাত্রছাত্রী, গুণগ্রাহী, সাহিত্য ও সংগীত অনুরাগীরা অনুষ্ঠানে সমবেত হয়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে তাঁর অবদানের স্মরণ করে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শুরুর মুহূর্ত

অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল সম্মেলক কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ‘শুভ্র সমুজ্জ্বল, হে চির-নির্মল’ দিয়ে। এরপর স্মরণগ্রন্থের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী গ্রন্থের বিষয়বস্তু ও কর্মভাবনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই গ্রন্থে ৫০টি লেখা ও একটি সাক্ষাৎকার রয়েছে। এতে তাঁর জীবনচরিত, শিক্ষকতা, সংগীতে অবদান ও গ্রন্থালোচনা অন্তর্ভুক্ত। লেখকেরা নানা দিক থেকে সন্‌জীদা খাতুনের বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন দিক ও তাঁর কাজের গভীর প্রভাবকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

গ্রন্থের বিশেষত্ব

এ ছাড়া এই গ্রন্থে সন্‌জীদা খাতুনের কর্মময় জীবনের অনেক আলোকচিত্রও রয়েছে। বইটি প্রকাশ করা হয়েছে অনেকটা অ্যালবামের মতো করে। প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হয়েছে তাঁর ব্যবহৃত একটি শাড়ির পাড়ের নকশা। মাঝখানে রয়েছে তাঁর নামের স্বাক্ষর। শিল্পী সব্যসাচী হাজরা প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করেছেন। সম্পাদক পরিষদে আরও ছিলেন রামেন্দু মজুমদার, মফিদুল হক, বেগম আক্তার কামাল, রুচিরা তাবাসসুম নভেদ ও জয়ন্ত রায়। প্রকাশ করেছে ছায়ানট। সম্পাদকেরা সবাই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ছায়ানটের সভাপতি সংগীতজ্ঞ শিক্ষাবিদ সন্‌জীদা খাতুন গত বছর ২৫ মার্চ প্রয়াত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গান ও স্মৃতিচারণা

গ্রন্থ পরিচিতির পরে ছিল একক কণ্ঠের দুটি গান। ইফ্ফাত আরা দেওয়ান গেয়েছেন রজনীকান্ত সেনের ‘স্বপনে তাহারে কুড়ায়ে পেয়েছি’ ও রবীন্দ্রসংগীত ‘ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়’ গেয়েছেন মহিউজ্জামান চৌধুরী ময়না। গানের পরে সন্‌জীদা খাতুনের স্মৃতিচারণা ও তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক আকতার কামাল। তিনি বলেন, বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাঁকে মনে হতো গম্ভীর প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু যখন তিনি ক্লাসে পড়াতেন বা গান গাইতেন, তখন আমরা অভিভূত হয়ে যেতাম। তিনি নিজের দায়বোধ থেকে সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসারের কাজ করেছেন। রাষ্ট্রের কাছে কোনো কিছু প্রত্যাশা করেননি। গানের মধ্য দিয়ে মানুষের প্রাণকে জাগাতে চেয়েছেন।

সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশনা

এরপরে সম্মেলক কণ্ঠে ছিল ‘পান্থ তুমি, পান্থজনের সখা হে’ গানটির পরিবেশনা। গানের পরে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, সন্‌জীদা খাতুন সংগীত চর্চার মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার সাধনা করেছেন। গত আট দশকে সন্‌জীদা খাতুন ও বাঙালি সংস্কৃতির বিনির্মাণের যাঁরা কাজ করেছেন, তাঁদের কথা উঠে এসেছে এই গ্রন্থে বিভিন্ন জনের লেখায়। এই স্মরণগ্রন্থ পাঠের ভেতর দিয়ে পাঠকেরা তাঁকে আরও নিবিড়ভাবে জানতে পারবেন। কবিগুরুর ‘কী রাগিণী বাজালে’ গানটি গেয়ে শোনান লাইসা আহমদ লিসা।

মোড়ক উন্মোচন ও সমাপ্তি

গানের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সন্‌জীদা খাতুন স্মরণগ্রন্থ: কী রাগিণী বাজালে’–এর মোড়ক উন্মোচন করেন সম্পাদক পরিষদের সদস্য ও অতিথিরা। এরপর সন্‌জীদা খাতুনের লেখা থেকে পাঠ করে শোনান জহিরুল হক খান ও সুমনা বিশ্বাস। কাজী নজরুল ইসলামের ‘ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে’ গেয়েছেন ফারহানা আক্তার শ্যার্লি এবং ‘প্রথম প্রদীপ জ্বালো মম ভবনে’ গানটি পরিবেশন করেন খায়রুল আনাম শাকিল। বিজয় সরকারের গান ‘আমার প্রাণ বন্ধুয়ার দেশে রে’ গেয়েছেন চন্দনা মজুমদার ও প্রাচীন লোকসংগীত ‘ভবের বাজার ভেঙে যাবে রে মন’ শুনিয়েছেন কিরণ চন্দ্র রায়। অনুষ্ঠান শেষ হয় জাতীয় সংগীত দিয়ে।