সৃজন আয়োজনে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সৃজন আয়োজনে কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা

সম্প্রতি শিল্প-সাহিত্যের সংগঠন সৃজনের মিরপুর কার্যালয়ে একক বক্তৃতা, একক কবিতাপাঠ এবং পাঠপর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে কবি লুব্ধক মাহবুবের ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কব্যগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্ট গবেষক ও গল্পকার প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক এবং বিশিষ্ট গবেষক প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ।

‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ গ্রন্থের বিশ্লেষণ

প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক বলেন, কবি লুব্ধক মাহবুব প্রেমের কবি। প্রবাসী জীবনের টানাপোড়েন তার কবিতার অন্যতম অনুষঙ্গ। ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থে এই কবি পরিণত এবং শব্দচয়নে দক্ষতা তার কবিতাকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে। তার কবিতায় দেশের প্রতি ভালোবাসা, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং প্রকৃতি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এই কবি দেশে না থেকেও দেশের সাথে তার কবিতার মাধ্যমে গভীর সংযোগ রেখেছেন, যা এই বইয়ের সাক্ষ্য বহন করে।

প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ বলেন, ‘জ্যোৎস্না অরণ্য’ কাব্যগ্রন্থের কবি লুব্ধক মাহবুব একজন জাত কবি। এটি তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ। আগের দুটি গ্রন্থের তুলনায় তিনি অনেক বেশি পরিণত। সুনির্বাচিত শব্দচয়ন, অনুপ্রাসের কাব্যময় প্রয়োগ, বক্রোক্তি ও ব্যজস্তুতির বর্ণময় ব্যবহার, প্রাসঙ্গিক যথাযথ উপমা-উৎপ্রেক্ষা ও চিত্রকল্প এবং গদ্য ছন্দের অনবদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি নিজস্ব ভাষাশৈলী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। গ্রন্থের আশিটি কবিতায় বিষয় বৈচিত্র্য কবিকে অনন্য বিশিষ্টতায় বিভূষিত করেছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর বিদেশে অবস্থান করেও তিনি নিজের মা-মাটি-মানুষকে ভোলেননি, বরং গভীর মমতায় তাদের বেঁধে রেখেছেন, যা প্রতিটি কবিতার প্রমাণ। স্রষ্টাপ্রদত্ত কবিপ্রতিভা ও গভীর অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি উত্তর আধুনিক কবি হিসেবে শিল্পশ্রীমণ্ডিতভাবে নিজেকে মেলে ধরেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের কবিতা বিষয়ক বক্তৃতা

অনুষ্ঠানের ‘স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের কবিতার গতি-প্রকৃতি’ বিষয়ে মূল বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক ড. কুদরত-ই-হুদা। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হলে পূর্ববাংলার মুসলমান কমিউনিটি সাগ্রহে তাতে শামিল হয়। এর কারণ ধর্মের চেয়ে অর্থনীতিকেন্দ্রিক ছিল। চল্লিশের দশকে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রচুর কবিতা লেখা হয়, কিন্তু ষাটের দশকে গিয়ে কবিদের এ বিষয়ে মোহভঙ্গ ঘটে।

আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতাপাঠ

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আরিফ মঈনুদ্দীনের একক কবিতাপাঠ অনুষ্ঠিত হয়। পঠিত কবিতার ওপর আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, নুসরাত সুলতানা এবং ওয়াহিদ জামান।

নুসরাত সুলতানা বলেন, কবিতা ব্যাখ্যার অতীত এক শিল্পকর্ম। শিশুর প্রথম কান্নায় মায়ের আনন্দ যেমন ব্যাখ্যা করা যায় না, তেমনি কবিতাও ব্যাখ্যা করা যায় না, কেবল উপলব্ধি করা যায়। কবি আরিফ মঈনুদ্দীন কাব্যজগতে বহু পথ পেরিয়ে এসেছেন। তার প্রকাশিত ১৮টি কাব্যগ্রন্থের শব্দচয়ন নান্দনিক এবং গভীর উপলব্ধি পাঠকের মননকে নাড়া দেয়। তার কবিতায় দর্শন, মনস্তত্ত্ব এবং জীবনের ভাঁজ উন্মোচনের আকাঙ্ক্ষা আছে।

আহমেদ বাসার বলেন, এ গ্রন্থের কবিতাগুলোতে মিস্টিক চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। কবিতাগুলো হৃদয় নয়, বরং মেধাশাসিত। অন্যদিকে ওয়াহিদ জামান বলেন, আরিফ মঈনুদ্দীনের কবিতা সহজ-সরল কিন্তু গভীর। জীবনের প্রতিটি অনুভবকে ধারণ করার প্রতিশ্রুতি আছে তার কবিতায়।

উপস্থিত কবি ও সাহিত্যিকবৃন্দ

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি লুব্ধক মাহবুব, কবি আরিফ মঈনুদ্দীন, কবি রমজান সরকার, কবি সাদমান সজীব, কবি শামস আরেফিন, কবি ও কথাসাহিত্যিক আকেল হায়দার, অনুবাদক মেজবাহ উদ্দিন, কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসার, কবি জুননু রাইন, পরিবেশবিদ কবি শেখ আহমেদ ফরহাদ, কবি ও প্রবন্ধকার প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান, প্রফেসর ড. ডি. এম. ফিরোজ শাহ, নাট্য নির্মাতা মিতুল খান, গবেষক হোসাইন মোহাম্মদ জাকি, কবি আহমেদ বাবু, কবি হাসিবুর রহমান জয়। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মো. আরিফুল ইসলাম, কবি মুনযির সাদ, কবি ও ছড়াকার হুসাইন আলমগীর, কবি অঞ্জলী রাণী পূজা, কবি ও সাংবাদিক মাসুদ হাসান, কবি ও সম্পাদক বহ্নি কুসুম, কবি ও কথাসাহিত্যিক সাহিনা মিতা, কথাসাহিত্যিক ফরিদুল ইসলাম নির্জন, ড. সর্দার এ হায়দার, কবি রহিজ আলী সরদার, কবি বোরহান মাসুদ, কবি তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, কবি আহমেদ বাবুল, কবি ফরহাদুর রহমান, সোহাগ হাওলাদার, রাসেল প্রমুখ।