দুর্যোগধর্ম আর শজনে ফুলের কবিতা
দুর্যোগধর্ম আর শজনে ফুলের কবিতা

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

দুর্যোগধর্ম আর শজনে ফুল

দুর্যোগধর্ম আর শজনে ফুল একসাথে ঝরে পড়ছে। ফাগুন বাতাস কতটা অধার্মিক হলে এমন ঘটাতে পারে।

ছায়াবাজি রোদ তোমার আকার বিকৃত করে দেখাচ্ছে সমাজকে। যেন তুমি শিমুল। তোমার শরীর রক্তনদী থেকে উঠে আসা ধ্রুপদি সংগীত। সব মানুষ গাইতে পারছে না। সবাই শুনতে চাইছে না। তবু বাজছ তুমুল। মগজের ঝিল্লি ছিঁড়ে যাচ্ছে, জোড়া নিচ্ছে। দিনরাত রাতদিন একই ঘটনাপ্রবাহের দুর্যোগ থেকে শুরু হচ্ছে সকাল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বৃহস্পতিবার

দাবি ছেড়ে পার হয়ে যেতে পারিবিবিধ বৃহস্পতিবারমুখস্থ সঙ্গমের রাত ফিরে এলেবারবার উলঙ্গ হতে ইচ্ছে করে যদিঅকস্মাৎ ডেকে ওঠো কারও নামবারান্দার গ্রিলে ধাক্কা খেয়েকেটে যায় কপাল তোমারকুকুরটা তক্ষুনি ঘেউ ঘেউ চেঁচায়জেনো বৃহস্পতিবার পেরিয়েসমুখে এগিয়ে যাচ্ছে একটি শামুকতার পায়ে পাহাড়ি মেয়ের ঘুঙুরশরীরে একান্নবর্তী পরিবারের প্রেমগলায় ভাঁজ খোলা চিঠির মাদুলিমাঝরাতে ডাকলে সে থুতু ছোড়েবৃহস্পতিবার রাত হলেও।

কালবাউশ

পিঠের নিচে বরফ বিছিয়ে শুয়ে আছেমরা মাছ এক কালবাউশ। কানকো ছুঁলে ছলকে পড়বে শীতল রক্ত। ভেসে যাবে বাজার অগ্রহায়ণের। ‘তফাত যাও সব ঝুট হ্যায়’ হাঁক ছেড়ে চলে যাবার সময় যাকে পাগল ভেবে থুতু ফেলেছ। তার আস্তিনে লুকানো আছে আট জোড়া পুরোনো টাঁকশাল। হরেক রঙের চকচকে নোটে নগ্ন পুরুষের অর্ধেক আঁকা বুক। বাকি অর্ধেক বুক বরফকলে থেঁতলে পিঠের নিচে বিছিয়ে রাখা। আমিও সেই বরফে শুয়ে থাকা কালবাউশ। আজ রাতের মধ্যে ফিরে যাব ঋণদাতার রসুইঘরে। যেখানে ধারালো বঁটি ঝিলকোচ্ছে চাঁদ ডুবে যাওয়া অন্ধকারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্তনপাহাড়

একটি স্তনস্পর্শ করলেই সমস্ত শীত ঝরে যায়মধ্যবর্তী দূরত্ব বজায় রেখেস্তন বাঁটোয়ারার মজলিশ চলছেঅন্ধদের মধ্যে কেউ কেউচিৎকার করে বলছে—স্তন নয়, আমাদের দৃশ্যমান কিছুদান করা হোকআকারে দীর্ঘ ভার বহনে সক্ষমভিখিরি যারা তাদের প্রত্যেকেঅন্ধ হবার আবেদন করেছে সানন্দেপর্যটকদের মধ্য থেকে একজনপাহাড়ের দাবিতে এগিয়ে এলযার স্ত্রী সন্তান জন্ম দিয়ে মরে গেছে।

প্রেম

জেগে থাকো রাতঘুমের খেরোখাতায় লিখে দাওফিলিস্তিনের মুক্তিবিজয়ের আনন্দে লুটিয়ে পড়ুকএলাচের সুবাসিত ফুলঝাড়শিশুদের হাত থেকে উৎকৃষ্ট হরিণেরস্বাদু কাবাব কেড়েকুড়ে খেয়ে নিকখিদে ভুলে যাওয়া অভুক্ত পাগলখাদ্যভর্তি জাহাজের সাইরেনআমি আমার ঘর থেকে শুনতে চাইতরুণীরা বিনুনি খুলে বাতাসেউড়িয়ে দিক চুলের পতাকাপরহেজগারের ওয়াক্ত কখনোসংকীর্ণ হতে পারে নাসমগ্র জগৎ তৈরি হয় ইবাদতকেআড়াল করে মাখলুকাত লুকিয়েযেমন আমাদের ঘুম আজওআমরা লুকিয়ে রাখি প্রেমের ভিতর।

প্রথম আলোর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

কবিতা থেকে আরও পড়ুন

শিল্প ও সাহিত্য

সাহিত্য

কবিতা-অন্য আলো