ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত আটটি সিনেমার কোনোটিই এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশিত সাফল্যের পথে গতি অর্জন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল। তার ভাষায়, চলমান পরিস্থিতিতে হলমালিকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
প্রদর্শক সমিতির সভাপতির বক্তব্য
তিনি বলেন, “খুবই খারাপ অবস্থা। কোনো ছবিই ভালো চলছে না। সাংবাদিকরাই রিভিউ দিয়ে দিয়েছেন কেন সিনেমা চলছে না। সিনেমা ভালো হয়নি তাই চলছে না।”
মাল্টিপ্লেক্সে আয় মন্থর
এদিকে মাল্টিপ্লেক্সেও সিনেমাগুলোর আয়ের গতি মন্থর বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে আয় অনেক কম।
সিনেমাগুলোর বক্স অফিস সংগ্রহ
ঈদ উল আযহার দশদিন পেরিয়ে মাল্টিপ্লেক্স বক্স অফিসে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে শাকিব খানের ‘রকস্টার’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ এবং মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘বনলতা সেন’।
বাংলা সিনেমার মেটা ডাটাভিত্তিক ফেসবুক পেজ বিএমআর–এর তথ্য অনুযায়ী, দশদিন শেষে সর্বোচ্চ আয় করেছে ‘রকস্টার’—মোট ২.৬৭ কোটি টাকা। দশম দিনে স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাসসহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ মিলিয়ে সিনেমাটির মোট শো ছিল ৬৯টি। তবে কোনো শো-ই হাউজফুল হয়নি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘রইদ’। নয়দিন শেষে সিনেমাটির আয় ১.০৭ কোটি টাকা। দশম দিনে ২২টি শো চলেছে, যার মধ্যে ৩টি শো প্রায় পূর্ণ দর্শক নিয়ে চলেছে।
‘বনলতা সেন’ দশদিন শেষে আয় করেছে ৪৩.৮৬ লক্ষ টাকা, শো ছিল ১১টি। ‘মালিক’ সিনেমার আয় ৩৬.৪৩ লক্ষ টাকা, শো ছিল ১২টি। ‘মাসুদ রানা’ আয় করেছে ১২.৪৭ লক্ষ টাকা, শো ছিল ৭টি। সবচেয়ে কম আয় করেছে ‘অফিসার’, যার মোট গ্রস ১.২৩ লক্ষ টাকা। দশম দিনে একটি শোতে মাত্র ৪ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
আন্তর্জাতিক প্রদর্শন
এদিকে ঈদের সিনেমাগুলোর আন্তর্জাতিক প্রদর্শনও শুরু হয়েছে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ৪১টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘রকস্টার’। সিনেমাটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনার দায়িত্বে রয়েছে স্বপ্ন স্কয়ারক্রো। অন্যদিকে ‘রইদ’ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে মুক্তি পেয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কয়েকটি শহরে প্রদর্শিত হবে। ‘মালিক’ আগামী ১৩ ও ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকসটাউনে প্রদর্শিত হবে বলে জানা গেছে।



