বাংলাদেশের নির্মাতা ইশতিয়াক আহমেদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট (সাঁকোটা দুলছে)’ সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয়েছে। ছবির প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
সাংহাই উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ার
চীনের সাংহাই শহরে আগামী ১২ থেকে ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটির ২৮তম আসর। সেখানে ১৫ জুন বিশ্ব প্রিমিয়ার হবে বাংলাদেশের এই চলচ্চিত্রের। ‘সাঁকোটা দুলছে’ নির্মিত হয়েছে বাংলাদেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মনপাচিত্র এবং জার্মানির মোগাডার ফিল্মের যৌথ উদ্যোগে। ছবিটির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রযোজনা করেছেন অভিনয়শিল্পী মনোজ প্রামাণিক। এটি পরিচালক, প্রযোজক এবং প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
ছবির গল্প ও প্রেক্ষাপট
গ্রামীণ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে নির্মিত সাদা-কালো এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে তিন নারীর সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং সামাজিক নিপীড়নের গল্প। কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও নানা বাধা অতিক্রম করে এক অন্ধ তরুণীর আত্মমুক্তির যাত্রাকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে ছবির কাহিনি। নির্মাতার মতে, ছবিটি নারীর স্বাধীনতা, বিশ্বাস ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নকে এক কাব্যিক চলচ্চিত্রভাষায় তুলে ধরেছে।
উৎসবে অংশগ্রহণ
উৎসবে অংশ নিতে প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক, পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ এবং প্রধান চরিত্রের অভিনয়শিল্পী সানজিদা আক্তার জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ ছাড়বেন। ১৫ জুনের প্রদর্শনীতে তাঁরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন—এমনটাই জানা গেছে।
পরিচালকের প্রতিক্রিয়া
সাংহাই উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হওয়ায় পরিচালক ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘গ্রামীণ বাংলাদেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি, কীভাবে কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা এবং সামাজিক বিধিনিষেধ নারীদের জীবনে প্রভাব ফেলে। এই চলচ্চিত্র সেই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নিয়েছে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নির্বাচিত হওয়া আমাদের পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং চলচ্চিত্রে প্রতিফলিত মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতার একটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’
প্রযোজকের বক্তব্য
প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক বলেন, ‘আমাদের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল সীমিত অর্থ, অল্প অভিজ্ঞতা এবং একদল স্বপ্নবান তরুণ চলচ্চিত্রকর্মীকে নিয়ে। সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এই নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের পরিশ্রম, ত্যাগ, বিশ্বাস এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রচর্চার স্বীকৃতি। চলচ্চিত্রটির নির্মাণযাত্রা ছিল দীর্ঘ এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ। সীমিত অর্থায়ন ও সম্পদ নিয়ে একদল তরুণ ও নিবেদিতপ্রাণ চলচ্চিত্রকর্মীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্মিত এই চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সম্ভাবনা ও শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠবে।’
নির্মাণের ইতিহাস
জানা গেছে, ২০২২ সালে ছবিটির প্রি-প্রোডাকশনের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালে শুটিং শুরু হলেও একপর্যায়ে কিছু ফুটেজ হারিয়ে যায়। পরে পুনরায় শুটিং শেষ করে ২০২৫ সালে ছবিটির কাজ শেষ করা হয়। প্রায় ৮০ মিনিট দৈর্ঘ্যের ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার, তাহমিদা রহমান, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম, নিশাত তাসনিম, মামুন রেজা, রবিউস সানি, ফয়সাল, পিয়াল সরকারসহ অনেকে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ারের পর ছবিটি বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের দর্শকের জন্যও এটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন প্রযোজক।



